123 Main Street, New York, NY 10001

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরণের হামলার কঠোর ও ভয়ঙ্কর প্রতিশোধ দেওয়া হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে সীমিত সামরিক পদক্ষেপের চিন্তা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক মহলে। এই পরিস্থিতির মধ্যে, আজ সোমবার তেহরান স্পষ্টভাবে বলেছে, যদি হামলা হয়, তার ফল ভয়ঙ্কর হতে বাধ্য। পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার প্রাক্কালে, ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক শক্তি মোতায়েনের ঠিক তখনিই এই হুঁশিয়ারি উচ্চস্বরে শোনা গেল।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে বলেছিলেন, যে কোনও রাষ্ট্র তার আত্মরক্ষার অধিকার থেকে বিরত থাকবে না। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সামান্য আঘাত এলে সেটি আগ্রাসন হিসেবে গণ্য হবে এবং ইরান সেই প্রতিক্রিয়া দিতে বাধ্য হবে। উল্লেখ্য, ওমানের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডে নতুন করে দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার পরোক্ষ আলোচনা শেষ হয়েছে, যার পরবর্তী বৈঠক আসন্ন বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নও এই সংঘর্ষ ঠেকাতে কঠোর উদ্যোগ নিচ্ছে। ইইউর পররাষ্ট্র নীতি প্রধান কাজা কালাস বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ নয়, কূটনীতি এখন অন্যতম চাবিকাঠি। তিনি মনে করেন, ইরানের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দুর্বলতা এই সুযোগ সৃষ্টি করেছে যা দূর করার জন্য আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধান দরকার। তবে, ইরান সরকার দৃঢ়স্বরে বলছে, তারা শুধুমাত্র নিজের পারমাণবিক কর্মসূচির দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করবে এবং পশ্চিমাদের কোনও অযৌক্তিক শর্ত মানবে না।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়তে থাকায়, ভারত সহ বেশ কয়েকটি দেশ তাদের নাগরিকদের দ্রুত ইরান ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে সুইডেন, সার্বিয়া, পোল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াও একই সতর্কতা জারি করেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ইরানের ওপর সামরিক শক্তি মোতায়েনের ফলে, সকল ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর জন্য ইরানকে তাদের প্রচেষ্টা ত্যাগ করতে হবে। এর জোরালো জবাবে ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, ইরানিরা ইতিহাসের সব সময়ই কারো কাছে মাথা নত বা আত্মসমর্পণ করেনি।

এদিকে, বাহ্যিক আক্রমণে রক্ষা পেতে কূটনৈতিক লড়াই চললেও, ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার হচ্ছে। জেন-জি প্রজন্মের চলমান বিক্ষোভ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে রেখেছে তেহরানকে। দমনপীড়ন ও গ্রেফতারের হুমকি সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় শহরে এই বিক্ষোভ অব্যাহত। এই সংকটের মধ্যেই, ভবিষ্যত পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে বিশ্ব নেতারা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, যাতে কোনও বড় সামরিক সংঘাত এড়ানো যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *