123 Main Street, New York, NY 10001

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানি সেনারা ভয়াবহ ড্রোন ও বিমান হামলা চালিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবর অনুযায়ী, এই অভিযানে পাকিস্তান আফগানিস্তানের পাকতিকা ও নানগারহার প্রদেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। বিশেষ করে পাকতিকা প্রদেশের একটি মাদ্রাসায় ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। যদিও আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এই হামলার বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে বিভিন্ন সূত্র হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করেছে।

পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযানে অংশ নেওয়া হয়। পাকিস্তানের দাবি, এতে অন্তত সাতটি গোপন টৈলার ও প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্ট এক সংগঠনের ক্যাম্পেও এই হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তানের সরকারের অভিযোগ, ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদে একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী হামলার মতো বড় নাশকতামূলক ঘটনা সবই প্রত্যক্ষভাবে আফগানিস্তানে অবস্থানরত সন্ত্রাসী নেতাদের নির্দেশনায় পরিচালিত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শনিবার রাতে খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু বিভাগে সংঘটিত একটি আত্মঘাতী হামলার পরই পাকিস্তান এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ওই হামলায় একটি লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুজন পাকিস্তানি সেনা নিহত হন। এর আগে গেলো সোমবার বাজাউরে নিরাপত্তা চৌকির কাছে একটি আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ১১ সেনা এবং এক শিশু প্রাণ হারায়; এর সঙ্গে আফগান নাগরিকের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। মূলত নিজ দেশের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে এবং সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতা দমন করতে পাকিস্তান এসব বিমান হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনার ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক এখন গভীর অস্থিরতার মুখে পড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *