123 Main Street, New York, NY 10001

ইরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবারও সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন। গত মাসে কঠোর দমন-পীড়নের পর এটি হলো এ ধরনের সবচেয়ে বড় আন্দোলন। যদিও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, কতজন বিক্ষোভকারী গ্রেফতার হয়েছে বা হয়নি। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) উদ্বোধনী দিনে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের চলমান প্রতিবাদ শুরু হয়, যখন ইরানি কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা শান্তিপূর্ণভাবে হাঁটছেন, وتنত তাঁদের হাতে ইরানের জাতীয় পতাকা দেখা যায়। তারা ‘নায়কের মৃত্যু হোক’ স্লোগান দিচ্ছে, যা সরাসরি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির প্রতি ইঙ্গিত। এর পাশাপাশি, অন্য দিক থেকে সরকারপন্থীদের উপস্থিতি ও ধস্তাধস্তির দৃশ্যও দেখা গেছে। তেহরানের আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। উত্তরের শহর মাশহাদেও শিক্ষার্থীরা ‘স্বাধীনতা, স্বাধীনতা’ ও ‘শিক্ষার্থীরা, আমাদের অধিকার আদায়ে আওয়াজ তোলো’ স্লোগান দেয়। শনিবারের দিনশেষে আরও বেশ কিছু বড় সমাবেশের খবর পাওয়া গেছে ও আগামী রোববার বৃহৎ বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছে। গত মাসে এই আন্দোলনের সূচনা হয় অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে, পরে তা ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে এবং ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বৃহৎ আন্দোলনে রূপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হুরানা জানায়, এই নভেম্বরের বিক্ষোভে অন্তত ৬ হাজার ১৫৯ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৮০৪ জন প্রতিবাদী, ৯২ শিশু ও ২১৪ জন নিরাপত্তা কর্মকর্তার সদস্য। তারা আরও জানাচ্ছে, তারা ১৭ হাজারের বেশি মৃত্যুর অভিযোগ তদন্ত করছে। তবে, ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১০০ এর বেশি নয়, এবং বেশিরভাগ নিহত মানুষ নিরাপত্তা বাহিনী বা ‘দাঙ্গাবাজদের’ হাতে নিহত। এদিকে, আমেরিকা মহাদেশে নিজের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তারা সীমিত সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কিছু প্রযুক্তিবিষয়ক কর্মকর্তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে অগ্রসর হচ্ছে, যদিও ইরান তা অস্বীকার করে। ১৭ ফেব্রুয়ারি সুইজারল্যান্ডে আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অগ্রগতি জানানো হলেও, ট্রাম্প পরবর্তীতে বলেছেন, সম্ভবত আগামী ১০ দিনের মধ্যেই বিশ্বের জানা যাবে- ইরানের সঙ্গে সমঝোতা হচ্ছে নাকি তিনি সামরিক পদক্ষেপ নেবেন। ট্রাম্প আগেও ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন, এমনকি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইরানের বিরোধী দলগুলো বাইরের হস্তক্ষেপের কঠোর বিরোধিতা করলেও, কিছু নীতিনির্ধারক দেশের পরিবর্তনের জন্য সেনা অভিযান চালানোর আহ্বান জানাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, মধ্যপ্রাচ্য কী ধরনের যুদ্ধের দিকে যাচ্ছে, তা এখনো অজানা নয়। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি দিচ্ছেন ট্রাম্প, পাশাপাশি তার ছেলে মোজতাবা খামেনিকে হত্যা করার ভাবনাও আলোচনায় আসছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের পর্যবেক্ষণে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঘটনা খুবই কাছাকাছি থাকায়, মার্কিন সেনারা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি চূড়ান্তভাবে বন্ধ করার জন্য দেশটির জন্য কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। ট্রাম্পের জন্য এটি এক ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি, যেখানে তিনি চাইছেন, দেশের জনগণের কাছে নিজের সাফল্য দেখাতে। মার্কিন পেন্টাগনও বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে অন্যতম হলো, খামেনি ও তার ছেলেকে সরিয়ে দেওয়া, যাতে ইরানের ‘মোল্লাতন্ত্র’ ভেঙ্গে যায়। এই পরিকল্পনা কিছু সপ্তাহ আগে ট্রাম্পের জন্য উপস্থাপিত হয়েছিল। সূত্র মতে, ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি, কিন্তু সব দিক বিবেচনা করে চলছেন। ট্রাম্পের একজন উপদেষ্টা জানান, তিনি এমন একটি চুক্তিতে যেতে চান যা রাজনৈতিক দিক থেকেও সফল হতে পারে। অন্যদিকে, উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইসরায়েল মনে করছে যে, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির চেয়ে যুদ্ধের সম্ভাবনাই বেশি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *