123 Main Street, New York, NY 10001

উত্তরাঞ্চলীয় থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই প্রদেশে অবস্থিত একটি ব্যক্তিগত সাফারি পার্কে ভয়াবহ এক বিপর্যয় আঘাত হেনেছে। গত কিছু সপ্তাহে প্রাণঘাতী ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে মা গিয়েছে অন্তত ৭২টি বাঘের। এই বিশাল মৃত্যুর ঘটনা শনিবার দেশটির প্রাদেশিক প্রাণিসম্পদ কার্যালয় নিশ্চিত করেছে, যা দেশ তথা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গভীর উদ্বেগেরের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই বাঘগুলো মূলত মারাত্মক সংক্রামক ভাইরাস ‘ক্যানাইন ডিস্টেম্পার’ এ আক্রান্ত হয়েছিলেন। এর পাশাপাশি, তাদের শরীরে এমন এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে, যা শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরিচালক সোমচুয়ান রতনামুংক্লান বলছেন, বাঘের মতো বন্যপ্রাণীর অসুস্থতা শনাক্তের জন্য সাধারণ পদ্ধতিগুলো খুবই চ্যালেঞ্জিং। যার ফলে, লক্ষণ দেখার আগেই রোগটি ব্যাপক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জানানো হয়, যখন বুঝতে পারা যায় যে প্রাণীগুলো অসুস্থ, তখন অনেকটাই দেরি হয়ে গেছে এবং চিকিৎসার সুযোগ হাতছাড়া হয়।

এই ঘটনাটি ঘটে চিয়াং মাইয়ের বিখ্যাত ‘টাইগার কিংডম’ সাফারি পার্কে। এই পার্কটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়, কারণ এখানে কর্তব্যে দর্শনার্থীরা বাঘের কাছে কাছাকাছি যেতে পারে, তাদের স্পর্শ করতে পারে এবং সরাসরি ছবি তুলতে পারে। তবে এই হৃৎপিণ্ডের মতো ঘটনাটি ঘটার পর, পার্কের পরিচালনা ও বন্যপ্রাণীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার মানদণ্ড নিয়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, পর্যটকদের জন্য বাঘের নিরাপত্তার বিষয়টি কতটা গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল, সেটাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

এদিকে, এই ভয়াবহ মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক প্রাণী অধিকার সংস্থা ‘পেটা এশিয়া’ তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, এই সাফারি পার্কে বাঘগুলোকে খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং প্রতিকূল পরিবেশে রাখা হত। বন্দীশাস্ত্রমূলক পদ্ধতিতে দীর্ঘসময় ধরে পশু রেখেও মানসিক ও শারীরিকভাবে তাদের ওপর অত্যাচার চালানো হতো। সংস্থার অভিমত, এই ধরনের বাণিজ্যিক বন্যপ্রাণী বন্দিতর ঘটনা, শুধু প্রাণীদের জন্যই নয়, বরং জনসাধারণের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তৈরি করে।

অফসেটের পর, থাইল্যান্ডের অন্যান্য সাফারি পার্কগুলোতেও প্রাণীর নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পরিচালনার জন্য জোর দাবি উঠেছে। সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান এখন দ্রুত এই বিষয়গুলো সমাধানের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, যেন ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *