ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর, ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে একটি অসাধারণ উত্থানকরছেন নরওয়ের অখ্যাত ক্লাব বোডো/গ্লিম্ট। গত জানুয়ারিতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনায় আসে এই দলের নামটি, যা তাদের ক্ষুদ্র দল হিসেবে পরিচিতির বাইরে নিয়ে গেছে। এবার তারা ঘরের মাঠে দুর্দান্তভাবে ম্যানচেস্টার সিটি হারানোর পর আরও একবার চমক সৃষ্টি করল ইন্টার মিলানকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে। বুধবার রাতে নরওয়ের আস্পমাইরা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্লে-অফ নকআউট পর্বের প্রথম লেগের ম্যাচে এই চমকপ্রদ জয় লাভ করে দলটি, এভাবেই শেষ ষোলোর পথে একধাপ এগিয়ে গেল। মাত্র ৫৫ হাজার জনসংখ্যার মৎস্যজীবী শহর থেকে উঠে আসা এই ক্লাবটি এখন ইউরোপের বড় বড় দলের জন্য এক আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই নিজেদের চেনা আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় বোডো/গ্লিম্ট। যদিও বলের দখলে ৫৫ শতাংশ সময় নিয়ে এগিয়ে ছিল ইন্টার মিলান, তবে কার্যকরীতার দিক থেকে পুরো ম্যাচে নিজের আধিপত্য বিস্তার করে স্বাগতিক দলটি। খেলার ২০তম মিনিটে মিডফিল্ডার সোন্দ্রে ব্রান্সটাডের অসাধারণ এক ফিনিশিংয়ে লিড নেয় বোডো/গ্লিম্ট। কিন্তু দুর্দান্ত এক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩০ মিনিটের সময়ে পিও এস্পোসিতোর গোলের মাধ্যমে ইন্টার ম্যাচে সমতা ফেরায়। বিরতির আগে এটাই ছিল প্রথমার্ধের শেষ। অনেকের ধারণা ছিল, দ্বিতীয়ার্ধে ইন্টার হয়তো ম্যাচে ফিরবে এবং অভিজ্ঞতার জোরে জয় তুলে নেবে।
তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইতিহাস লেখে স্বাগতিক দল। মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে দুটি গোল করে ইন্টারকে বিধ্বস্ত করে দেয় বোডো/গ্লিম্ট। ৬১ মিনিটে জেন্স পিটার হাউগ এবং ৬৪ মিনিটে ক্যাসপার হগের দ্রুত আক্রমণ ও নিঃস্বার্থ অ্যাসিস্টে এই গোলগুলো করে তারা স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে দেয়। পুরো ম্যাচে বোডো/গ্লিম্ট仅 ৮টি শট নেয়, যার মধ্যে ৬টিই লক্ষ্যে ছিল, যা তাদের ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ের প্রমাণ। বিপরীতে, ইন্টার ১১টি শট নিয়েও লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ হয়। টানা সাত জয় করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের পরবর্তী পর্বে প্রবেশের স্বপ্ন দেখছিল এই আর্জেন্টাইন তারকা লাউতারো মার্টিনেজের দল, তবে আজ বড় হারের গ্লানি তারা এড়াতে পারেনি।
এটি একেবারেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগে এটাই ছিল না মাত্র একটি অঘটন, তারা অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের মাঠেও ২-১ গোলে হেরেছে। ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বোডো/গ্লিম্ট এখন আর কেবল অপ্রত্যাশিত দল নয়, তারা কৌশলী ফুটবলের এক নতুন শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এই পরাজয় ইন্টার মিলানের জন্য কঠিন পরীক্ষার নাম। আসন্ন মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ইন্টার মিলানের ঘরের মাঠে ফিরতি লেগের ম্যাচ। সেখানে যদি তারা ফিরতি সুযোগ গ্রহণ করে না, তাহলে শেষ ষোলোর পথে তাদের পথ কঠিন হয়ে উঠবে। অন্যদিকে, নিজের অভিষেকেই রূপকথার গল্প রচনা করতে প্রস্তুত বোডো/গ্লিম্টের জন্য অপেক্ষা করছে বড় চ্যালেঞ্জ, সেটি হলো সান সিরো স্টেডিয়ামে তাদের আরেকটি বলিষ্ঠ অভিযান। আজকের এই বড় জয় নতুন ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকল তাদের জন্য।