123 Main Street, New York, NY 10001

ভারতীয় ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত নিরসনের মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়া পুনরায় স্বাভাবিক করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাস। তিনি জানান, ভিসা সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সীমিত পরিসরে মেডিকেল ভিসা এবং ডাবল এন্ট্রি ভিসা চালু রয়েছে, তবে শীঘ্রই সাধারণ পর্যটক, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য পেশার মানুষদের জন্য ভিসা সহজে পাওয়ার ব্যবস্থা সচল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বুধবার বিকেলে সিলেট জেলা প্রেস ক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় এই তথ্য তুলে ধরেন তিনি।

সভায় অনিরুদ্ধ দাস বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের বন্ধুত্ব কেবল রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি পারস্পরিক সম্মান, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক দ্বিপাক্ষিকতা ভিত্তিক। তিনি আরও বলেন, ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক আঞ্চলিকতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি দেশের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কের মূল শক্তি হলো দুই দেশের সাধারণ জনগণ। এজন্য তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, স্থায়ী ও ইতিবাচক সম্পর্ক ধরে রাখতে জনগণের অংশগ্রহণ ও বিশ্বাসের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে সহকারী হাই কমিশনার বলেন, সত্যনিষ্ঠ সংবাদ ও গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি দূর করে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা সম্ভব। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তথ্যের透明তা বজায় থাকলে ভিসা প্রক্রিয়া ও অন্যান্য সেবা দ্রুত ও সহজ হবে। তিনি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও বিকশিত করার জন্য সকল ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিকরা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো এবং সিলেটের মধ্যে ব্যবসা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। তারা ভারত সরকারের ‘আসিস টু বাংলাদেশ’ ও ‘এলওসি’ প্রকল্পের আওতায় সিলেটে আরও অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। এছাড়াও, মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান ও শহীদদের ত্যাগের কথা স্মরণ করে বক্তারা আরও গভীর বন্ধন ও পারস্পরিক সম্মানের জন্য ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার গুরুত্ব বৈঠকে আলোচনা করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মঈন উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন রাজেশ ভাটিয়া ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধি। শেষে সহকারী হাই কমিশনার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন ও সিলেটের উন্নয়ন ও ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্বে তাঁর সংস্থা থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস ব্যক্ত করেন। এই মতবিনিময় সভা দুই দেশের বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ও সকলের জন্য উপকারী আলোচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *