123 Main Street, New York, NY 10001

আমেরিকার সরকার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানিতে এখনও লাগু থাকা বর্তমান শুল্ক ব্যবস্থা বজায় রেখেই এর প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তন করার পরিকল্পনা করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এই বিষয়টি বিবেচনা করছে, যদিও শুল্কের হার এখনও অপরিবর্তিত থাকবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, মূল লক্ষ্য হলো আমদানি সংক্রান্ত দাপ্তরিক কাজগুলো সহজতর করা, যাতে ব্যবসায়ীরা কম সময়ে ও কম খরচে তার কাজে সমন্বয় করতে পারেন। এর ফলে মূল ব্যবসা ও উৎপাদনক্ষেত্রের কাজে দুর্ভোগ কমবে এবং ব্যবসায়ের বর্তমান দাপ্তরিক জটিলতাগুলো তুলনামূলকভাবে সহজ হবে।

জেমিসন গ্রিয়ার আরো বলছেন, বর্তমানে বিদ্যমান শুল্ক সংক্রান্ত নিয়মাবলী অনুসরণ করতে গিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করতে হচ্ছে ও অনেক সময় ব্যয় হচ্ছে। মার্কিন সরকার চাইছে এ রকম পরিস্থিতি কমিয়ে আনা, যাতে ব্যবসায়ীরা তাদের মূল উৎপাদন ও বিক্রয় কার্যক্রমে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারে। এজন্য শুল্কপ্রয়োগের পদ্ধতিকে আরও সুবিধাজনক ও গতিশীল করে তোলার জন্য বেশ কিছু সংস্কার আনা হচ্ছে।

বাণিজ্য প্রতিনিধির ভাষ্য অনুযায়ী, এই শুল্ক নীতি সফলতার স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই শক্তিশালী পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শিল্প পুনরুজ্জীবিত হয়েছে ও এগিয়ে যাচ্ছে সঠিক পথে। এর পাশাপাশি, অন্যান্য দেশও এই শুল্ক বাধা ও অপ্রয়োজনীয় বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে আনতে প্রভাবিত হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদিভাবে যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এই সাফল্য ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে বর্তমান শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর রাখায় আগ্রহী ট্রাম্প প্রশাসন।

উল্লেখ্য, গত বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে চীনের অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা মোকাবিলা ও মার্কিন শিল্পের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদেশি ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। পরে এই ধাতুগুলো দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ফিনিশড পণ্যেও শুল্কের পরিধি বাড়ানো হয়। এর ফলে আমদানির কাঁচামালের উৎস ও পরিমাণ নির্ণয় ও হিসাব করা জটিলতা ও ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে, ওয়াশিংটন এই জটিলতা কাটিয়ে উঠার জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই পরিবর্তন কার্যকর হলে মার্কিন উৎপাদনশীলতা ও আমদানির গতি আরও বাড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *