123 Main Street, New York, NY 10001

রাশিয়ার অন্যতম প্রভাবশালী বিরোধী নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনি বিষাক্ত ডার্ট ফ্রগের বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে বলে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় মিত্ররা অভিযোগ করেছেন। তবে রাশিয়া এই দাবিকে অস্বীকার করে জানিয়েছে, তাদের কোনো মদত বা সক্ষমতা নেই নাভালনির মৃত্যুতে। নাভালনির মৃত্যুর দুই বছর আগে সাইবেরিয়ার একটি কারাগার থেকে মুক্তির পর তিনি মাত্র ৪৭ বছর বয়সে মারা যান। রুশ সরকারের দাবি, তার মৃত্যু হদ্দরোগে আক্রান্ত হয়ে স্বাভাবিক ভাবেই হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর যুক্তরাজ্য ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা জানিয়েছেন, শরীরে ডার্ট ফ্রগের বিষ পাওয়া গেছে—এপিবাটিডিন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেন, ‘নাভালনিকে বন্দি অবস্থায় এই বিষ প্রয়োগের ক্ষমতা, উদ্দেশ্য এবং সুযোগ কেবল রুশ সরকারই ছিল।’ তিনি আরও জানান, পুতিন প্রশাসন নাভালনিকে শত্রু মনে করতেন, তাই এই বিষ প্রয়োগের নিশ্চয়তা রয়েছে। নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালনায়া বারবার দাবি করে আসছেন, রাশিয়া তাকে বিষ দিয়ে হত্যা করেছে। সম্প্রতি মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাভালনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ব্রিটিশ ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা বলছেন, রুশ সরকার এই বিষ প্রয়োগের জন্য সক্ষমতা এবং উদ্দেশ্য ছিলই। ডার্ট ফ্রগের শরীরে থাকা এপিবাটিডিন বিষ অত্যন্ত শক্তিশালী, যা ম্যাটফিনের চেয়ে ২০০ গুণ বেশি শক্তিশালী। বিজ্ঞানীরা বলেন, সাইবেরিয়ার জেলে থাকতে নাভালনির শরীরে এ বিষ পাওয়া যায়নি, যা জানিয়েছে যৌথ বিবৃতি। এই বিষের উপাদান আলাদাভাবে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় না, অর্থাৎ এটি কৃত্রিমভাবে তৈরি। এর মাধ্যমে মনে করা হচ্ছে, কেবল রুশ সরকারই এর ব্যবহার করতে পারে। যুক্তরাজ্য রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থাকে (OPCW) সূত্রে জানিয়েছে, রাশিয়া এই বিষের চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার তার সাহসিকতা এবং গণতন্ত্রের জন্য লড়াইয়ের জন্য নাভালনির প্রশংসা করেছেন, এবং বলেছেন, তার সত্য প্রকাশের সংকল্প ভবিষ্যতেও স্মরণীয় থাকবে। তিনি আরো জানান, রাশিয়া আমাদের জনগণ ও মূল্যবোধকে রক্ষা করার জন্য যা যা দরকার, সবই তিনি করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *