123 Main Street, New York, NY 10001

ইউরোপজুড়ে ইসরাইলি পণ্যবর্জনের আন্দোলন এখন কেবল সাধারণ নাগরিক বা রাস্তায় প্রতিফলিত আন্দোলন নয়, বরং এর প্রভাব গভীরভাবে ছড়িয়ে পড়ছে দেশগুলোর কেন্দ্রীয় নীতির স্তরেও। আয়ারল্যান্ডের একটি সুপারশপে একজন কর্মীর ব্যক্তিগত নৈতিক অবস্থান থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ এখন মহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক জোড়ালো হয়ে উঠেছে। গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান চালানোর প্রতিবাদে ঐ কর্মী When চেকআউট কাউন্টারে ইসরাইলি ফল ও সবজি বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। তবে ব্যাপক জনমত ও ট্রেড ইউনিয়নের চাপের কারণে কর্তৃপক্ষ তাকে পুনরায় কাজে ফিরিয়ে আনে। এই ঘটনা অন্য কর্মীদের জন্য এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যেখানে ব্যক্তিগত নৈতিকতার ভিত্তিতে তারা ইসরাইলি পণ্য স্পর্শ বা বাজারজাত করার বিরুদ্ধে একত্রিত হয়ে উঠছে।

বর্তমানে আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং নরওয়ের মতো দেশে প্রভাবশালী ট্রেড ইউনিয়নগুলো এমন প্রস্তাব অনুমোদন করেছে যেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কোনো কর্মীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ইসরাইলি পণ্য তুলে ধরতে বা বিক্রি করতে জোর দেওয়া যাবে না। ব্যবসার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব দৃশ্যমান। যুক্তরাজ্যের ‘কো-অপারেটিভ’ এবং ইতালির ‘কো-অপ অ্যালেঞ্জা ৩.০’ নামের বড় রিটেইল চেইনগুলো গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে কয়েকটি ইসরাইলি পণ্য বিক্রয় তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই আন্দোলনকে ১৯৮৪ সালে আয়ারল্যান্ডের ‘ডান স্টোরস’ বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করছে। সেই আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে আয়ারল্যান্ড প্রথম পশ্চিমা দেশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এখন এই ধরনের নাগরিক ও পেশাজীবী নেতৃত্বাধীন চাপ ইসরাইলের বিরুদ্ধেও কার্যকর হতে শুরু করেছে।

রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসরাইল বড় ধরনের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সংকটে পড়েছে। স্পেন ও স্লোভেনিয়া ইতোমধ্যে দখলকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরাইলি বসতি থেকে আগত পণ্যের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। স্লোভেনিয়া ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে এবং স্পেন ২০২৬ সালের শুরুতেই এই আইন কার্যকর করেছে। এমনকি নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে তীব্র ছাত্র আন্দোলনের পর সংসদ সদস্যরাও অবৈধ বসতির পণ্য নিষিদ্ধের জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। আয়ারল্যান্ডে বর্তমানে ‘অকিউপাইড টেরিটরি বিল’ পাসের প্রক্রিয়া চলমান, যা কার্যকর হলে ইসরাইলি বসতির পণ্য আমদানি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হবে। তবে দেশের বেশ algunos রাজনৈতিক নেতার অভিযোগ, মার্কিন ও ইসরাইলি লবিস্টদের চাপের কারণে এই বিলের কার্যকালে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

অন্যদিকে, এই বর্জন আন্দোলন রুখতে ইসরাইল সরকার ও তাদের সমর্থক গ্রুপগুলো আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন লবিস্ট সংস্থা সতর্ক সতর্কবার্তা দিচ্ছে, ইসরাইলি পণ্য বর্জন করলে মার্কিন কোম্পানি ও ইউরোপীয় দেশগুলোর ব্যবসায়িক স্বার্থ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া নথিপত্রে জানা গেছে, ইসরাইলের কৌশলগত বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইউরোপে এই আন্দোলন মনিটরিং ও দমন করার জন্য লাখ লাখ ইউরো খরচ করে বিভিন্ন আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করেছে। পাশাপাশি, জার্মানি ও অন্যান্য দেশেও এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগ তুলে এর অর্থায়ন বন্ধের প্রস্তাব পাস করা হয়েছে। তবে লবিস্ট সংস্থাগুলোর তৎপরতা সত্ত্বেও ইউরোপের বাজার ও রাজনীতিতে ইসরাইল এখন এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যেখানে সম্প্রতি নানা পরিস্থিতিতে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *