ইরানের সাথে সম্পর্কে শান্তিপূর্ণ সমঝোতা বা দীর্ঘমেয়াদী সমাধান না হলে আবারও ভয়ঙ্কর সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সতর্কতা জারি করেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি আমাদের সামনে আসন্ন মাসের মধ্যে ইরানের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তি হতে পারে। তবে যদি তা না হয় বা ইরান এগিয়ে না আসে, তাহলে খুবই ভয়ঙ্কর কিছু ঘটবে। তিনি আরও যোগ করেন, আমাদের অবশ্যই একটি চুক্তিতে আসতে হবে না হলে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। এই পরিস্থিতি থেকে রেহাই পেতে আমাদের কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।
ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ২০১৬ সালে তার প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সংঘাতে নানা ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা বেড়ে যায়। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ পরিচালনা করেছিল, যা এক ভয়ঙ্কর স্বীকৃতি হিসেবে দেখা যায়।
বৈরী সম্পর্কের মধ্যেই চলতি বছর ডিসেম্বরে ইরান ব্যাপক বিক্ষোভের মাধ্যমে এবং সরকারের দমন-পীড়নের মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। ট্রাম্প তখনও স্মার্ট আচরণ করে বলেন, এই পরিস্থিতিতে সৈন্য পাঠানোর চাইতে শান্তিপূর্ণ সমাধানই উত্তম। তবে সে সময়, অর্থাৎ গত জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য প্রদর্শনের জন্য বিশাল Armada, যেমন ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং অন্যান্য বিমানবাহী রণতরীগুলো মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়।
অপরদিকে, ওমানের রাজধানী মাস্কাটে চলতি বছরের শেষের দিকে ইরানের প্রতিনিধিদলের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সূত্র জানাচ্ছে, এই বৈঠক ইতিবাচক দিক নির্দেশ করছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে পরমাণু বিষয়ক আলোচনা এগোচ্ছে। তবে এখনও কঠোর কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এসবের মধ্যেই, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন বা উত্তেজনা কমানোর জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।