123 Main Street, New York, NY 10001

বিশ্ব রাজনীতি ও সামরিক সমীকরণের পরিবর্তনের মধ্যেও ভারতের রাশিয়ার তৈরি সমরাস্ত্রের উপর আস্থা অটুট রয়েছে। সম্প্রতি দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের আকাশসীমা সুরক্ষার জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে প্রায় দেড় শতাধিক অতি আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রুশ টেলিভিশন চ্যানেল ‘রাশিয়া টুডে’ এ খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে, এই ক্রয়ের মাধ্যমে ভারত তার আর্কষক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে। এই দীর্ঘপাল্লার বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের অধিগ্রহণের লক্ষ্য হলো দেশের আকাশসীমাকে আরও সূক্ষ্মভাবে রক্ষা করা এবং আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার নতুন দিক খুলে দিতে। বন্ধুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং বর্তমান চলমান ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব বাড়ছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সামর্থ্য বাড়ানোর জন্য আরও আধুনিক অস্ত্রপ্রণाली ও যুদ্ধবিমান কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই নতুন ক্রয়ে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে দূরপাল্লার কমব্যাট ক্ষেপণাস্ত্র, মাল্টি-রোল ফাইটার বিমান, অতিরিক্ত রাফাল যুদ্ধবিমান এবং একটি এয়ার-শিপ ভিত্তিক উচ্চগতির স্যাটেলাইট। এই আধুনিকায়নের জন্য মোট প্রস্তাবিত বাজেট প্রায় ৩,৯০০ কোটি মার্কিন ডলার। যদিও সরকারি বিবৃতিতে সরাসরি ‘এস-৪০০’র নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, যেসব ‘কমব্যাট ক্ষেপণাস্ত্র’ কেনার কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে মূলত রয়েছে রুশ প্রযুক্তির এস-৪০০ এবং পান্তশির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা।

অধিকারে বলা হয়েছে, ভারতীয় বিমান বাহিনী মোট ২৮৮টি ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য আবেদন জানিয়েছে। এর মধ্যে ১৬৮টি এস-৪০০ এবং ১২০টি পান্তশির ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত। রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ সিস্টেম বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম উন্নত ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে স্বীকৃত। এই সিস্টেমটি দূরবর্তী থেকে শত্রুপক্ষের বিমান, ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম। বর্তমানে ভারতের কাছে চারটি এস-৪০০ ইউনিট সক্রিয় রয়েছে এবং আরও দুটি ইউনিট দ্রুত তাদের বহরে যুক্ত হবে। এই নতুন উল্লেখযোগ্য অর্ডার ভারতের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাকে আরও সুদৃঢ় করবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে চলমান সীমান্ত উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভারত বড় ধরনের এই পদক্ষেপ নিয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারত এই বিশাল অস্ত্রের অর্ডার দিয়ে তার স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি প্রকাশ করেছে। এই চুক্তির ফলে ভারতের বিমান বাহিনী আক্রমণাত্মক এবং প্রতিরক্ষামূলক ক্ষমতা একসঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী কয়েক বছর চলার মধ্যে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পর্যায়ক্রমে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর অংশ হয়ে যাবে, যা দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্য আরও প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *