123 Main Street, New York, NY 10001

ইতালির ক্রীড়া ইতিহাসে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকল। ফুটবলপ্রিয় দেশ হিসেবে পরিচিত এই দেশে ক্রিকেট দল গতকাল মুম্বাইয়ের ঐতিহ্যবাহী ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেপালকে ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হেরে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এটিই ইতালির প্রথম্যায্য বিশ্বকাপ জয়, যা দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও গর্বের ঢেউ তুলেছে। ম্যাচ শেষে দুই ভাই—জাস্টিন ও অ্যান্থনি মস্কা মাঠজুড়ে উল্লাস প্রকাশ করে গ্যালারির দর্শকদের অভিবাদন ও প্রশংসা এনে দিয়েছেন, যা ইতালির ক্রিকেটে নতুন এক দিগন্তের সূচনা করেছে।

ম্যাচে শুরুতেই টস জিতে ব্যাটিং করতে নামা নেপালকে ইতালির গতিশীল বোলাররা শুরু থেকেই চেপে ধরে। নির্ধারিত ২০ ওভারে নেপালির ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ১২৩ রানে। এরই মধ্যে লক্ষ্য হিসাবে সেট করা ১২৪ রান নিয়ে ব্যাট করার জন্য নামানো হয় ইতালির দুই ওপেনার জাস্টিন ও অ্যান্থনি মস্কাকে। তারা বিধ্বংসী ব্যাটিং করেন, কোনো উইকেট না হারিয়েই মাত্র ১২.৪ ওভারে জয় নিশ্চিত করে। জাস্টিন ৪৪ বলে ৬০ রান করেন, আর তার ভাই অ্যান্থনি আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ৩২ বলে ৬২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১০ উইকেটে জয় এক বিরল প্রজেক্ট, যা বিশেষ করে ইতালির মতো নবীন দলের জন্য এক বিশাল অর্জন।

এই ঐতিহাসিক জয়ে প্রধান ভূমিকা রেখেছেন ইতালির লেগস্পিনার কৃশান কালুগামাগে। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান খরচায় তিনটি উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার অর্জন করেন। মজার বিষয় হলো, কৃশান নিজে একজন পিৎজা কারিগর—পেশায় সে একজন পিৎজাব্যবসায়ী। ম্যাচের পর অধিনায়ক হ্যারি ম্যানেন্তি সংবাদ সম্মেলনে জানান যে, তাঁদের দলের ১৫ জন ক্রিকেটারের মধ্যে ১২ জন অন্য পেশায় কাজ করেন। কৃশানের মতো খেলোয়াড়রা সারাদিন পিৎজা বানিয়ে বা অন্য পেশায় ব্যস্ত থাকলেও, ক্রিকেটের জন্য তারা সময় বের করেন ও অর্থ উপার্জন করেন। এভাবেই এই অনন্য জয়টি কেবল একটি ম্যাচের ফল নয়, বরং ত্যাগের এক অনুকরণীয় নজির।

এই সাফল্য দেশটির ফুটবল ইতিহাসের এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি আধুনিক ফুটবল বিশ্বমঞ্চে গত বিশ বছরে খুব বেশি সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। ২০০৬ সালে বার্লিনে শিরোপা জেতার পর থেকে ২০১০ ও ২০১৪ সালে তারা একেকটি ম্যাচে জয় পেয়েছে মাত্র। পরে ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে তারা মূল পর্বে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বেশি মজার ব্যাপার হলো, ইতালির এই দুই দশকের বিশ্বকাপ জয়ের সংখ্যা একটিই, আর এই জয়ের মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও একমাত্র সাফল্য লাভ করে ফেলল। অর্থাৎ, ফুটবল ও ক্রিকেটের বৈশ্বিক আসরে ইতালির জয়ের সংখ্যা এখন সমান—একটি করে।

২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পরবর্তী ফুটবল বিশ্বকাপে ইতালির অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চিত। যদি তারা আগামী মার্চের প্লে-অফ পার করতে না পারেন, তবে টানা তৃতীয়বারের মতো তারা বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যেতে পারে। এই সংকটের মাঝেও ক্রিকেটের এই অভূতপূর্ব জয় ইতালির ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উৎসাহ ও আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করেছে। অধিনায়ক হেথি ম্যানেন্তি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, এই জয়ের ফলে ইতালিতে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়বে। ভবিষ্যতে, ফুটবল ছাড়াও ক্রিকেটে ইতালি তাদের নাম উজ্জ্বল করবে, যেমনটির আশা তাঁদের দলের তরুণ ক্রিকেটাররা ভবিষ্যতে করে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *