123 Main Street, New York, NY 10001

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, এ ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চস্তরের দুই কর্মকর্তার নিশ্চিত কথা এসেছে। সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে ছিলেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

একজন ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ছাড়াও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা ইউক্রেনের কাছ থেকে দ্রুত নির্বাচন সম্পন্নের দাবি জানান। তিনি বলেন, আমরা ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের বলেছি, আমরা এই যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি চাই কারণ আমাদের হাতে বেশি সময় নেই।

অভিযানের সূত্রে জানা গেছে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কির দপ্তরও ওই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তবে তারা এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। ২০১৯ সালের মে মাসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন জেলেনস্কি; তার বেড়ে ওঠার পর থেকে তিনি বিভিন্ন ডিক্রির মাধ্যমে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করেছেন, এমনকি তার সাংবিধানিক মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও।

শীতকালীন সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে আবারও বন্দি বিনিময় হয়েছে। বৃহস্পতিবার উভয় দেশ ১৫৭ জন করে ৩১৪ জন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। এই বন্দির মধ্যে সাধারণ নাগরিক ও সামরিক বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন। এই মুক্তিই সম্ভব হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আবুধাবিতে চলমান আলোচনার দ্বিতীয় দিনে। মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, শান্তি আলোচনার ফলেই এই বন্দি বিনিময় সম্ভব হয়েছে। তবে আরও অনেক কাজ বাকি রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

এদিকে, রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর ওপর হামলা জোরদার করছে, এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভ জানিয়েছেন, রাশিয়া যে স্টারলিংক টার্মিনাল ব্যবহার করে ড্রোন হামলা চালাচ্ছিল, তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে এখন পর্যন্ত নিহত সেনার সংখ্যা ৫৫ হাজারের বেশি। এছাড়া নিখোঁজের সংখ্যাও ব্যাপক।

জেলেনস্কি এক ফরাসি টেলিভিশন ইন্টারভিউতে বলেছেন, এই সংখ্যাটি প্রায় বীরদর্পে বাড়ছে। তিনি আগে বলেছিলেন, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে নিহতের সংখ্যা ৪৩ হাজার হবে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেন, যুদ্ধের অন্যতম কঠিন বিষয় হলো ভূখণ্ড বিষয়ক। রাশিয়া দাবি করছে, ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের বাকি ২০ শতাংশ এলাকাও তাদের দখলে রাখতে চায়। ইউক্রেন এই দাবিকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এদিকে, ইউক্রেন চাইছে জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ, যা বর্তমানে রাশিয়ার দখলে।

আবুধাবিতে এই সপ্তাহে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনার দ্বিতীয় দফায় বড় কোনো অগ্রগতি না হলেও, বৃহস্পতিবার বন্দি বিনিময় হয়েছে যা গত অক্টোবরের পর প্রথম। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র আগামী সপ্তাহে মায়ামিতে নতুন দফা আলোচনা প্রস্তাব দিয়েছে এবং ইউক্রেন সেটিতে সম্মত হয়েছে।

সিবিহা বলেছেন, আমাদের জন্য এখন গতি রয়েছে, সেটি সত্য। আমাদের লক্ষ্য দ্রুত শান্তির দিকে এগোনো এবং এই প্রচেষ্টাকে শক্তিশালী করা। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পুরু রাশিয়ার আক্রমণে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা দখল করেছে, যার মধ্যে ক্রিমিয়া ও পূর্ব ইউক্রেনের কিছু অংশ রয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৩ সালের শুরু থেকে রাশিয়া খুব বেশি নতুন এলাকা দখল করতে পারেনি।

ইউক্রেনের চাহিদা নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে আর রাশিয়ার আক্রমণ ঠেকানো যায়। সিবিহা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত। তবে, এতে কোনও মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হবে না। পাশাপাশি, কিছু দেশ নিজ উদ্যোগে প্রতিরক্ষামূলক বাহিনী পাঠানোর প্রস্তুতিও দেখিয়েছে, তবে তাদের নাম প্রকাশ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *