123 Main Street, New York, NY 10001

গত বছরের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা মানেনি ইসরায়েল। প্রায় প্রতিদিনই

হামলা চালিয়েছে দেশটি। গত ২৪ ঘণ্টা গাজাজুড়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।

গাজার পাশাপাশি পশ্চিম তীরের জেরিকোতেও ইসরাইলি অভিযানে বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি

হতাহত হয়েছেন।

এদিকে প্রায় ১৮ মাস পর গাজায় প্রবেশ করেছে মিশরে আটকা পড়া ফিলিস্তিনিদের প্রথম বাস।

নিজ ভূমিতে ফিরে বন্দিদশার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন ফিলিস্তিনিরা। রাফাহ

সীমান্ত খুলে দেয়ার পর এখন পর্যন্ত মাত্র ৫ জন মুমূর্ষু রোগীকে মিশরে যাওয়ার অনুমতি

দিয়েছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রশাসন।

প্রায় দুই বছর পর গত রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) গাজা ও মিসরের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ

রাফাহ সীমান্ত পরীক্ষামূলকভাবে পুনরায় খুলে দেয় ইসরাইল। তবে রাফাহ দিয়ে

ফিলিস্তিনিদের যাতায়াত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

প্রায় ৫০ জন গাজায় ঢোকার কথা থাকলেও মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত মাত্র তিন নারী ও নয়

শিশু প্রবেশ করতে সক্ষম হন। বাকিরা নিরাপত্তা ছাড়পত্রের অপেক্ষায় আটকে আছেন।

অন্যদিকে চিকিৎসার জন্য গাজা ছাড়ার অপেক্ষায় থাকা ৫০ জনের মধ্যে মাত্র পাঁচজন

রোগী ও সাতজন স্বজন মিশরে যেতে পেরেছেন। গতকাল বুধবারের জন্য রাফাহ ক্রসিং দিয়ে

রোগী ও আহতদের বহির্গমন বাতিল করা হয়েছে।

ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (পিআরসিএস) মুখপাত্র বলেছেন, তাদেরকে জানানো

হয়েছে যে রাফাহ ক্রসিং দিয়ে রোগী ও আহতদের সরিয়ে নেয়ার কাজ আজকের জন্য বাতিল

করা হয়েছে।

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলে বক্তব্য দিয়ে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস

বলেন, গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার রক্ষায়

জাতিসংঘ বরাবরই অটল।

গাজা ও মিসরের মধ্যে রাফাহ সীমান্ত আংশিকভাবে পুনরায় খোলার প্রথম দিনেই গুতেরেস

মানবিক সহায়তা প্রসঙ্গে জোর দেন। তিনি বলেন, গাজায় দ্রুত ও বৃহৎ পরিসরে ত্রাণ

প্রবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

গাজায় গণহত্যায় সহায়তা: দুই ইসরায়েলি নারীর বিরুদ্ধে ফ্রান্সের গ্রেপ্তারি

পরোয়ানা

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় গণহত্যায় সহায়তার অভিযোগে নিলি কুফার-নাউরি ও র‍্যাচেল

তিউতু নামের দুই ইসরায়েলি নারীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ফ্রান্সের

কর্তৃপক্ষ। কট্টরপন্থী এ দুই নারী ইসরায়েলের পাশাপাশি ফ্রান্সের নাগরিক।

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এ দুজনের বিরুদ্ধে

এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে গত সোমবার জানিয়েছে ফরাসি সংবাদপত্র লে মঁদ।

নিলি কুফার-নাউরি পেশায় একজন ফরাসি-ইসরায়েলি আইনজীবী এবং ‘ইসরায়েল ইজ ফরএভার’ নামের

একটি সংগঠনের প্রধান। অন্যদিকে র‍্যাচেল তিউতু ‘তসাভ ৯’ নামের একটি সংগঠনের

মুখপাত্র। গাজায় ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশে বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সরাসরি ভূমিকা

ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুফার-নাউরি। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি

বলেন, ‘বিপদ হলো আমি হয়তো আর কখনোই ফ্রান্সে যেতে পারব না। কারণ, ফরাসি কারাগারে

যাওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই।’ তিনি আরও জানান, ‘তসাভ ৯’ সংগঠনের অন্য সদস্যদের

বিরুদ্ধেও ফ্রান্সে তদন্ত চলছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠন ‘আল-হক’সহ

আরও কিছু ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন এ দুই নারীর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত।

ইসরায়েলি দখলদার কর্তৃপক্ষ এর আগে আল-হককে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত

করেছিল।

উল্লেখ্য, গাজায় সংকটজনক পরিস্থিতিতে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তার প্রবেশ বাধাগ্রস্ত

করার ঘটনাকে গণহত্যার অন্যতম উপাদান হিসেবে দেখছেন মানবাধিকারকর্মীরা।

ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন গার্দিওলা

ম্যানচেস্টার সিটির ম্যানেজার পেপ গার্দিওলা বলেছেন, নিজের অবস্থান ব্যবহার করে

তিনি একটি ভালো ও মানবিক সমাজ গড়তে চান। কারাবাও কাপের সেমিফাইনালে নিউক্যাসেলের

বিপক্ষে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি শুধু ফুটবল নয়, বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত ও

মানবিক সংকট নিয়েও কথা বলেন। গত সপ্তাহে স্পেনের বার্সেলোনায় একটি চ্যারিটি

কনসার্টে অংশ নেন গার্দিওলা। সেখানে তিনি ফিলিস্তিনি শিশুদের পাশে থাকার কথা জানান।

তিনি বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে শিশুদের নিহত ও আহত হওয়ার দৃশ্য তাকে

গভীরভাবে কষ্ট দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে গার্দিওলা বলেন, ‘মানব ইতিহাসে কখনো এত স্পষ্টভাবে আমরা তথ্য ও ছবি

সামনে পাইনি। ফিলিস্তিনে যা হচ্ছে, ইউক্রেনে যা হয়েছে, রাশিয়া, সুদানসহ বিশ্বের

নানা প্রান্তে যুদ্ধ- সবকিছু আমরা প্রতিদিন দেখতে পাচ্ছি। এসব দেখে কেউ কি প্রভাবিত

না হয়ে থাকতে পারে? এখানে ডান-বাম রাজনীতি বা কে ঠিক কে ভুল, তা মূল বিষয় নয়। হাজার

হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে- এটাই আমাকে কষ্ট দেয়। বিষয়টি এত জটিল নয়।

মানুষ মারা যাচ্ছে, এটা আমাকে আঘাত করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি না, মানুষ এসব দেখে কীভাবে আবেগহীন থাকতে পারে।

প্রতিদিন বাবা-মা ও শিশুদের জীবন ধ্বংস হচ্ছে। এত কষ্ট দেখেও সহানুভূতি না রাখা

অসম্ভব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *