123 Main Street, New York, NY 10001

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ক্রিকেটীয় বৈরী সম্পর্ক এবার নতুন এক মোড় নিয়েছে। আসন্ন

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের বিষয়ে ভারতের অনড়

অবস্থানের প্রেক্ষাপটে এবার পাকিস্তান সুপার লিগ বা পিএসএল নিয়ে পাল্টা কঠোর

অবস্থান গ্রহণ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। আসন্ন পিএসএলের ১১তম আসরের

আন্তর্জাতিক সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও অত্যন্ত

সুপরিকল্পিতভাবে ভারতের বাজারকে এই তালিকা থেকে বাদ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ পাকিস্তানের

এই জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগটির সম্প্রচার বা মিডিয়া স্বত্ব এবার

ভারতের কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করছে না পিসিবি। দুই দেশের রাজনৈতিক ও

ক্রীড়াঙ্গনের উত্তপ্ত পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব হিসেবেই পিসিবির এই সিদ্ধান্তকে

দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

পিসিবি সূত্রে জানা গেছে, ভারত ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য সব অঞ্চলের জন্য এক বছরের

বৈশ্বিক মিডিয়া স্বত্বের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। সেখানে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে

চুক্তিটি লুফে নিয়েছে ওয়ালি টেকনোলজিস। পিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের

চুক্তিতে তারা নির্ধারিত রিজার্ভ প্রাইসের চেয়েও অনেক বেশি মূল্য পেয়েছে। এমনকি গত

চক্রের তুলনায় এবার মিডিয়া স্বত্বের মূল্য অবিশ্বাস্যভাবে ১৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ভারতের বিশাল বাজারকে বাইরে রেখেও বাণিজ্যিক এই বড় সাফল্য পিসিবির জন্য একটি

ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মূলত পিএসএলকে বিশ্বজুড়ে আরও বড় ব্র্যান্ড

হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতেই এই ধরণের বাণিজ্যিক কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা

হচ্ছে।

পিএসএলের ১১তম আসর আয়োজনের প্রস্তুতি বর্তমানে পুরোদমে এগিয়ে চলছে। নির্ধারিত সূচি

অনুযায়ী, আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা

রয়েছে। এর আগে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি বহুল প্রতীক্ষিত খেলোয়াড়দের নিলাম বা ড্রাফট

অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করার পর থেকে পিএসএল তার স্পন্সরশিপ, মিডিয়া

স্বত্ব এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম—সব ক্ষেত্রেই ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী বাণিজ্যিক

প্রবৃদ্ধি অর্জন করে আসছে। বর্তমানে এটি পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় এবং লাভজনক ক্রীড়া

ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের পক্ষ থেকে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বা বড় টুর্নামেন্টে

পাকিস্তানের সঙ্গে খেলতে অসম্মতি জানানোর প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানও এখন তাদের ঘরোয়া

লিগের বাণিজ্যিক সুবিধা থেকে ভারতকে বঞ্চিত করার পথে হাঁটল। এর ফলে ভারতের কোটি

কোটি ক্রিকেটপ্রেমী এবার সরাসরি টেলিভিশনের পর্দায় পিএসএলের রোমাঞ্চ উপভোগ করা থেকে

বঞ্চিত হতে পারেন। সব মিলিয়ে, ক্রিকেট মাঠের লড়াই ছাপিয়ে দুই দেশের এই

মনস্তাত্ত্বিক ও বাণিজ্যিক যুদ্ধ দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটীয় কূটনীতিকে আরও জটিল করে

তুলল। পিসিবির এই সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটীয় সম্পর্কে কী

ধরণের প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *