123 Main Street, New York, NY 10001

দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘ওসিডি’

আগামী শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। প্রখ্যাত নির্মাতা সৌকর্য ঘোষাল

পরিচালিত এই সিনেমাটি মূলত শিশু নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর সামাজিক ইস্যু এবং এর

সুদূরপ্রসারী মানসিক প্রভাবকে কেন্দ্র করে নির্মিত। বিনোদনের পাশাপাশি সমাজে শিশু

সুরক্ষার বিষয়ে সচেতনতার বার্তা দিতেই নির্মাতা এই মনস্তাত্ত্বিক ড্রামাটি

সেলুলয়েডে বন্দি করেছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার খবরে জয়া

ভক্তদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

সিনেমাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে শ্বেতা নামের একজন চিকিৎসককে ঘিরে, যে চরিত্রে অভিনয়

করেছেন জয়া আহসান। কাহিনীর গভীরে দেখা যায়, শ্বেতার সফল ক্যারিয়ারের আড়ালে লুকিয়ে

আছে তাঁর শৈশবের এক তিক্ত ও ধূসর অভিজ্ঞতা। সেই পুরনো ট্রমা বা অন্ধকার স্মৃতি তাকে

প্রতিনিয়ত মানসিকভাবে তাড়া করে বেড়ায়। একপর্যায়ে শ্বেতার সেই গোপন অতীত সম্পর্কে

তাঁর এক রোগী জেনে যাওয়ার পর শ্বেতার সাজানো জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ এক পরিণতি।

চারপাশের চেনা মানুষগুলোর সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে এবং তাঁর মানসিক অস্থিরতা

চরম রূপ নেয়। শ্বেতা কি শেষ পর্যন্ত তাঁর শৈশবের সেই ক্ষত কাটিয়ে সুস্থ জীবনে ফিরতে

পারবেন, নাকি ট্রমার নীল দংশনে হারিয়ে যাবেন—সেই রহস্যের জট খুলবে সিনেমার পর্দায়।

পরিচালক সৌকর্য ঘোষাল ‘ওসিডি’-কে কেবল একটি গতানুগতিক থ্রিলার বা সাইকোলজিক্যাল

ড্রামা হিসেবে দেখছেন না; বরং একে সমাজে শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে এক শৈল্পিক

প্রতিবাদ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি

উল্লেখ করেন যে, সমাজে বড়দের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সরব আলোচনা হলেও শিশুদের সমস্যার

ক্ষেত্রে অনেকেই নীরব থাকেন। এই নীরবতাই শিশুদের মনে স্থায়ী ট্রমা বা মানসিক অসুখের

জন্ম দেয়, যার ফলশ্রুতিতে ওসিডির মতো জটিলতা তৈরি হয়। শিশুদের প্রতি সমাজের এই

উদাসীনতা দূর করার লক্ষ্যেই তিনি এই ভিন্নধর্মী কাহিনীটি নির্মাণ করেছেন।

অভিনেত্রী জয়া আহসান এই সিনেমায় একটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ও সংবেদনশীল চরিত্রে কাজ

করেছেন। শ্বেতা চরিত্রের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি জানান, এই সিনেমার চিত্রনাট্যটি

প্রচলিত ধারার বাইরের এবং এতে ওসিডির মতো জটিল মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো রয়েছে।

চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে তিনি এই রোগটি নিয়ে নিবিড় পড়াশোনা করেছেন। জয়া আরও উল্লেখ

করেন যে, সিনেমায় শিশুদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় শুটিং চলাকালে প্রতিটি

মুহূর্তে আলাদা সতর্কতা ও সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে হয়েছে। জয়া আহসানের পাশাপাশি এই

সিনেমায় আরও অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, কৌশিক সেন, অনসূয়া মজুমদার, কণিনীকা

ব্যানার্জি এবং আরশিয়া মুখার্জি। গুণী অভিনয়শিল্পীদের এই সমাগম ‘ওসিডি’ সিনেমাটিকে

দর্শকদের জন্য একটি উপভোগ্য ও ভাবনার খোরাক জোগানো কাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে বলে

আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *