123 Main Street, New York, NY 10001

লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্রিপ্টো ডটকম অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস কেবল

সংগীতের কোনো অনুষ্ঠান ছিল না, বরং এটি পরিণত হয়েছিল মানবাধিকার ও প্রতিবাদের এক

শক্তিশালী মঞ্চে। যুক্তরাষ্ট্রে চলমান অভিবাসনবিরোধী অভিযান এবং প্রতিবাদকারীদের

ওপর সহিংসতার প্রেক্ষাপটে এবারের গ্র্যামিতে রাজনীতির সুর ছিল অত্যন্ত জোরালো।

অনুষ্ঠানজুড়ে অনেক খ্যাতনামা তারকাকে ‘ICE OUT’ লেখা ব্যাজ পরে অভিবাসীদের প্রতি

সংহতি প্রকাশ করতে দেখা গেছে। বিলি আইলিশ, কেলানি এবং জাস্টিন ও হেইলি বিবারের মতো

বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা প্রকাশ্যে অভিবাসনবিরোধী সহিংসতার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান

তুলে ধরেন।

এই উত্তাল আবহে মঞ্চে এসে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দেন পুয়ের্তো রিকোর বৈশ্বিক

সুপারস্টার ব্যাড বানি। তাঁর জনপ্রিয় অ্যালবাম ‘ডেবি তিরার মাস ফোতোস’-এর জন্য সেরা

মুসিকা উরবানা অ্যালবাম বিভাগে গ্র্যামি জয় করেন তিনি। পুরস্কার গ্রহণ করার পর

প্রথাগত ধন্যবাদের বদলে তিনি অভিবাসন নীতির কঠোর সমালোচনা করে এক আবেগঘন বক্তব্য

প্রদান করেন। তিনি অত্যন্ত জোরালো কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, অভিবাসীরা কোনো বর্বর বা

পশু নন, এমনকি তারা ভিনগ্রহের কেউও নন। তারা প্রত্যেকেই মানুষ এবং তারা সবাই

আমেরিকান। তাঁর এই সাহসী বক্তব্য উপস্থিত দর্শকদের মাঝে বিপুল করতালির ঝড় তোলে।

ব্যাড বানি তাঁর বক্তব্যে কেবল অধিকারের কথা বলেই ক্ষান্ত হননি, বরং বর্তমান

বিশ্বের ক্রমবর্ধমান ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধেও কথা বলেন। তিনি বলেন, চারদিকের এই

প্রতিকূল পরিবেশে কাউকে ঘৃণা না করা অনেক সময় কঠিন হয়ে দাঁড়ায় এবং মানুষ অজান্তেই

সেই ঘৃণার দ্বারা দূষিত হয়ে পড়ে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, ঘৃণার জবাবে ঘৃণা দিলে

অশুভ শক্তি আরও শক্তিশালী হয়। তাঁর মতে, ঘৃণার চেয়েও বড় শক্তি হলো ভালোবাসা। যদি

কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতেই হয়, তবে তা ভালোবাসা দিয়েই করতে হবে। পরিবার ও

মানুষের প্রতি এই অকৃত্রিম ভালোবাসাই মুক্তির একমাত্র পথ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে ব্যাড বানির এই দৃঢ় অবস্থান অবশ্য নতুন কিছু নয়। এর

আগেও তিনি পুয়ের্তো রিকোর ট্রান্সজেন্ডার নারী হত্যার প্রতিবাদে বা সাবেক মার্কিন

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির কড়া সমালোচনা করে খবরের শিরোনাম

হয়েছেন। তবে গ্র্যামির মতো একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই মানবিক

ইস্যুটি তুলে ধরাকে বিশ্লেষকরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। এখন সবার নজর

আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘সুপার বোল’ হাফটাইম শোর দিকে, যেখানে এই তারকা

শিল্পী তাঁর এই মানবিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে কীভাবে নতুন করে তুলে ধরেন তা

দেখতে বিশ্ববাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *