123 Main Street, New York, NY 10001

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই

দিনে নির্ধারিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বা ন্যাশনাল চার্টার সংক্রান্ত গণভোট

পর্যবেক্ষণের জন্য ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতীয়

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, নয়াদিল্লিকে এই

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও ভারত এখন

পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই

নির্বাচনকে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ

ও সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানানোর যে পরিকল্পনা নিয়েছে, ভারতের প্রতি এই আহ্বান তারই

অংশ।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়

থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, আসন্ন নির্বাচনে আন্তর্জাতিক

পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি হবে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখন

পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মোট ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে

আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই সংখ্যা ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির বিতর্কিত দ্বাদশ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। পর্যবেক্ষকদের এই দলে অন্তত ছয়টি

আন্তর্জাতিক সংস্থা, ১৬টি রাষ্ট্র এবং বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের

প্রতিনিধিত্বকারী ৩২ জন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কার্যক্রম সমন্বয় ও প্রস্তুতির দায়িত্বে থাকা সরকারের

সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন।

তিনি জানান, আমন্ত্রিত অনেক রাষ্ট্র ও সংস্থা ইতোমধ্যে ইতিবাচক সাড়া দিলেও বেশ কিছু

দেশ এখনও তাদের প্রতিনিধি দলের সদস্যদের নাম চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ফলে

ভোটের আগে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের এই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা

রয়েছে। ভারতের পাশাপাশি নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, মিসর, ফ্রান্স,

কুয়েত, মরক্কো, নাইজেরিয়া ও রোমানিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোকেও এই গণতান্ত্রিক

প্রক্রিয়ায় সাক্ষী হতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এখন পর্যন্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো

এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (এএনএফআরইএল), যাদের পক্ষ থেকে ২৮ জন প্রতিনিধি

উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া কমনওয়েলথ সচিবালয় থেকে ২৫ জন, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা

(ওআইসি), ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান

ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে সাতজন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই)

থেকে একজন অভিজ্ঞ প্রতিনিধি নির্বাচনে উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি ভয়েস ফর জাস্টিস,

ডেমোক্র্যাসি ইন্টারন্যাশনাল, এসএনএএস আফ্রিকা এবং সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের

মতো সংগঠনের হয়ে ৩২ জন পর্যবেক্ষক ব্যক্তিগত সক্ষমতায় মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি

পর্যবেক্ষণ করবেন।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের যে গভীর

আগ্রহ তৈরি হয়েছে, ভারতের অংশগ্রহণ সেই বিশ্বাসযোগ্যতাকে আরও সুসংহত করবে। ভারতের

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়ে নীরব

থাকলেও সংশ্লিষ্ট মহলে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। মূলত একটি অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক

নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করতে এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে

জনরায়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের

সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সমন্বিতভাবে এই বিশাল পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *