123 Main Street, New York, NY 10001

ইংল্যান্ডের সাবেক টেস্ট ব্যাটসম্যান মার্ক বুচার মনে করেন, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়ার ঘটনা বিশ্ব ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াতে পারে। উইজডেন ক্রিকেট উইকলি পডকাস্টে অংশগ্রহণ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ যদি এভাবে বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ে, তা যেন ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের জন্য একটি নিদর্শন হিসেবে কাজ করে, যেখানে খেলাধুলার স্বচ্ছতা ও মর্যাদা সংরক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হয়। মূলত ভারতে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ৪ জানুয়ারি বিসিবি ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ করলেও, ২১ জানুয়ারি আইসিসি তাদের অবস্থানে শক্ত অবস্থানে থাকলে বাংলাদেশ সিদ্ধান্ত নেয় টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ না করার, এবং পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে।

প্রাকৃতিক এই পরিস্থিতিকে তিনি ‘একেবারে বিশৃঙ্খল অবস্থা’ বলে অভিহিত করেছেন এবং গত বছর ভারতের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সমস্যা ও ভারত-পাকিস্তান টানাপোড়েনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। বুচার বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা আগে থেকেই দেখা গেছে, যেমন চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতের অবস্থান আগে থেকেই পরিষ্কার ছিল। তখন আইসিসি সিদ্ধান্ত নিতে পারত। তবে এই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা এবং এখনকার পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল। এর ফলে বোঝা যায়, ক্রিকেটের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’

বুচার বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী নীতিমালার পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘এটাই সত্যিই একটি দৃষ্টান্ত, যা অনুসরণ করা উচিত। যদি কোনো দেশ নিরাপত্তা বা অন্য কোনও কারণে আন্তর্জাতিক আসর থেকে বাদ দিতে চায়, তাহলে সেই দেশের অংশগ্রহণে অসুবিধা হওয়া উচিত। টুর্নামেন্ট যেন নির্বিঘ্নে চলে আবার অন্য দল সুযোগ পায়—এটাই হওয়ার কথা।’

চুক্তি ও মতানৈক্যের মধ্যে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সাবেক সভাপতি মহসিন নাকভি বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট বর্জনের ইঙ্গিত দিলে, বুচার এ বিষয়ে একেবারেই ভিন্নভাবে মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না, অন্য দেশগুলো ভারতের মতো একই অবস্থানে আছে। তবে খেলাধুলার স্বচ্ছতা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ, এমনকি অর্থের দিক থেকেও বেশি। পাকিস্তান যদি বলে, বাংলাদেশ যদি তাদের ম্যাচ পরিবর্তন করতে না পারে, তাহলে তারা কি টুর্নামেন্ট থেকে সরে যাবে? আমার সন্দেহ রয়েছে, অনেক দেরি হয়ে গেছে।’

বুচার আরও বলেন, ‘টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার দায়ভার সংশ্লিষ্ট দেশের। পরিস্থিতি যদি বিবেচনা করে বলা যায়, তাহলে এটাই একমাত্র পদক্ষেপ: বা তো আপনি অংশ নেবেন, বা না হয়, অন্য কেউ খেলবে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবলে, এগিয়ে যাওয়ার জন্য এটি যথাযথ পথ। এতে বিতর্ক বাড়ছে এবং ক্রিকেট বিশ্বে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *