123 Main Street, New York, NY 10001

সরকার সাতক্ষীরা জেলাকে ‘বি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করেছে। এই সিদ্ধান্তের জন্য গত ২৭ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এর ফলে জেলাটির প্রশাসনিক গুরুত্ব আরও বাড়বে, পাশাপাশি সরকারি জনবল ও অন্যান্য সুবিধা ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাবে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভায় এই উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সাতক্ষীরাকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এই অনুমোদনের ভিত্তিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এটি কার্যকর করে। নতুন এই মর্যাদার ফলে প্রশাসন জেলাটির প্রয়োজনীয় জনবল এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য কার্যক্রম শুরু করবে।

সরকার এই সিদ্ধান্তের পেছনে বেশ কিছু যুক্তিসঙ্গত কারণ উল্লেখ করেছে। নিকার সভায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে সাতক্ষীরা বর্তমানে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জেলা। এখানে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের একটি অংশ। পাশাপাশি, ভোমরা স্থলবন্দর দেশের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দরের মধ্যে একটি, যা দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। এই সব কারণ বিবেচনা করেই জেলাটিকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত একটি জেলাকে তার উপজেলা সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। যেখানে ৮ বা তার বেশি উপজেলা থাকলে ‘এ’ ক্যাটাগরি, ৫ থেকে ৭টি থাকলে ‘বি’ ক্যাটাগরি এবং ৫টির কম হলে ‘সি’ ক্যাটাগরি ধরা হয়। তবে জেলাগুলোর অবস্থান ও গুরুত্বের কারণে সরকার বিশেষ বিবেচনায় এই শ্রেণিবিন্যাস পরিবর্তন করতে পারে। সাতক্ষীরার ক্ষেত্রেও এ ধরনের বিশেষ বিবেচনায় ক্যাটাগরি পরিবর্তন আনা হয়েছে।

২০২০ সালের ৬ আগস্ট সর্বশেষ এই শ্রেণিবিন্যাস হালনাগাদ করা হয়েছিল। দীর্ঘ বছর পর এই উন্নয়নের ফলে স্থানীয় প্রশাসনে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে জেলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ এবং জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে সুবিধা বাড়বে। এই সিদ্ধান্ত জেলাবাসীর জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা জেলাটির সমগ্র উন্নয়নের দিকে চলার পথে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *