123 Main Street, New York, NY 10001

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সরাসরি আকাশপথের যোগাযোগ আবারো পুনরায় শুরু হচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) থেকে ঢাকা-করাচি রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ২০১২ সালে নিরাপত্তা উদ্বেগে এই রুটে ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার পর এখন দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবারো নিয়মিত এ যাত্রার সুযোগ উপলব্ধ হচ্ছে দুটো দেশের যাত্রীদের জন্য। এই সরাসরি সংযোগের ফলে ভ্রমণের সময় যেমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, তেমনি যাতায়াত খরচেও অনেক বড় অঙ্কের সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, ঢাকা থেকে করাচির দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ৪৭১ মাইল। এই রুটে ১৬২ আসনের আধুনিক বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজ দ্বারা শুরুতে সপ্তাহে দুই দিন ফ্লাইট পরিচালিত হবে। প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ও শনিবার এই ফ্লাইটগুলো ঢাকা থেকে করাচির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং আবার ঢাকা ফিরবে। সরাসরি এই ফ্লাইট চালু হওয়ায় এখন মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই আপনি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন, যা আগে ট্রানজিটের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ব্যয় ও ক্লান্তিকর ছিল।

নতুন এই রুটের প্রতি যাত্রীদের কাছ থেকে ব্যাপক উৎসাহ পাওয়া গেছে বলে বিমান সংস্থার জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারের প্রথম ফ্লাইটের সব টিকিট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে, আর দ্বিতীয় ফ্লাইটের ৮০ শতাংশ আসন ইতিমধ্যে বুকিং শেষ। আগে যেখানে যাত্রীদের দোহার বা দোহার-মা ট্রানজিটের ঝামেলা থাকত, সেখানে এখন সরাসরি আকাশপথে ভ্রমণ অনেক বেশি সুবিধাজনক ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ হবে। এছাড়া, খরচের দিক থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে ট্রানজিটসহ ভ্রমণে বড় অঙ্কের টাকা খরচ হতো, সেখানে এখন সরাসরি ফ্লাইটের মাধ্যমে রাউন্ড ট্রিপে সর্বনিম্ন ৫১ হাজার টাকা খরচ হবে, যা বহু যাত্রীর জন্য অনেক অর্থ সাশ্রয়ী। এ থেকে অন্তত ৩০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেঁচে যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা এই রুটটি পুনরায় চালু হওয়াকে কৌশলগত ও বাণিজ্যিক দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিমত দিয়েছেন। দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, ঢাকা-করাচি সরাসরি বিমান চলাচল শুধু যাত্রী পরিবহনে সীমাবদ্ধ থাকছে না, এটি দুই দেশের মধ্যে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে কার্গো বা পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও নতুন দ্বার খুলে যাবে। পাকিস্তান প্রতিবছর পর্যটন খাতে বড় অঙ্কের রাজস্ব আয়ের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, তাহলে এই সরাসরি যোগাযোগ বাংলাদেশের পর্যটকদের জন্যও বেশ আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ সময় পরে এই সরাসরি ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পর্যটন খাত আরও গতি লাভ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রানজিটের দীর্ঘ অপেক্ষা ও অতিরিক্ত খরচ কমিয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে দ্রুত যাতায়াতের এই উদ্যোগ সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবারের আনুষ্ঠানিক যাত্রার মাধ্যমে আকাশপথের এই বিরতিকেই দূর করে আঞ্চলিক সংযোগ আরও সুদৃঢ় হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *