123 Main Street, New York, NY 10001

সরকার দেশীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বাতিল হওয়া ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইকোনমিক জোন) স্থানের পরিবর্তে সেখানে একটি সামরিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নের নীতিগত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় সোমবার বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) একটি সভায়, সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এই তথ্য জানান। সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও।এছাড়াও, আনোয়ারায় ফ্রি ট্রেড জোন তৈরি, কুষ্টিয়ায় সুগারমিলে ইকোনোমিক জোনের পরিকল্পনা, এবং পৌরসভার অভ্যন্তরে ইকোনোমিক জোনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাপানের সঙ্গে একনেক (এফটিএ) করার বিষয়েও আলোকপাত করা হয়। এর পাশাপাশি, বিডা ও মিডা গর্বনিং বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য (এফডিআই) প্রবাসীদের জন্য ১.২৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। চীনসহ অন্যান্য দেশের জন্য বিডার অফিস স্থাপনের পরিকল্পনা ও দেশের ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে আশিক চৌধুরী জানান, মিরসরাইয়ে অবস্থিত জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এনএসইজেড) এর প্রায় ৮৫০ একর জমি ‘ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলকে জি-টু-জি (সরকারের সঙ্গে সরকারের সংযোগ) কাঠামো থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, এবং এই স্থানটি এখন প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য ব্যবহার করা হবে।বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য একটি বা একাধিক রাষ্ট্রীয় কারখানা তৈরি করা নয়, বরং বিদেশি অংশীদারদের সাথে প্রযুক্তি বিনিময় ও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পে সক্ষমতা অর্জন। ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের সুযোগও থাকবে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে দেখা যায়, যুদ্ধক্ষেত্রে উচ্চপ্রযুক্তির অস্ত্রের চেয়ে গোলাবারুদি ও মৌলিক সামরিক সরঞ্জাম বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা নিজেদের উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে।আশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, এই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে এই শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হবে। প্রথম পর্যায়ে পুরো এলাকায় একযোগে কাজ শুরু হবে না, বরং পরবর্তী পাঁচ বছর ধরে ধাপে ধাপে প্রস্তুতিমূলক ও প্রাথমিক কার্যক্রম চালানো হবে।তিনি বলেন, অংশীদার দেশ বা স্পেসিফিক পণ্য নির্দিষ্ট করতে হলে তা কূটনৈতিক ও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা বাধ্যতামূলক এবং এখনো সিদ্ধান্তান্তর হয়নি। তবে, তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, রাজনৈতিক পরিবর্তন এলেও এই প্রকল্প অব্যাহত থাকবে।সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ফ্রি ট্রেড জোন (এফটিজেড) তৈরির লক্ষ্যে সরকার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৬০০ থেকে ৬৫০ একর জমিতে এই জোন তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এই ফ্রি ট্রেড জোন ‘অভ্যন্তরীণ টেরিটরি’ হিসেবে পরিচালিত হবে, যেখানে কাস্টমসের বাধা ছাড়াই পণ্য সংরক্ষণ, উৎপাদন ও পুনঃরপ্তানি সম্ভব হবে। এতে বাংলাদেশের ‘টাইম টু মার্কেট’ বা দ্রুত বাজারে পৌঁছানোর সমস্যা অনেকটাই কমবে।দুবাইয়ের জেবেল আলি ফ্রি জোনের মডেল অনুসরণ করে এই উদ্যোগে সফল হলে দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা দ্রুত সংশোধন করে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে বলে নিশ্চিত করেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও স্বনির্ভরতা আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা আশাবাদী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *