123 Main Street, New York, NY 10001

ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে চলতি মাসের শুরুতে

যুক্তরাষ্ট্র তুলে নেওয়ার পর দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের গোপন

আঁতাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে শুক্রবার

জানানো হয়েছে যে, মাদুরোর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত বর্তমান ভারপ্রাপ্ত

প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এবং তাঁর ভাই জাতীয় পরিষদের প্রধান জর্জ রদ্রিগেজ

মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে আগে থেকেই মানসিকভাবে

প্রস্তুত ছিলেন। উচ্চপর্যায়ের চারটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মধ্যস্থতাকারীদের

মাধ্যমে এই দুই ভাইবোন যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের কর্মকর্তাদের আগেই আশ্বস্ত করেছিলেন

যে তাঁরা মাদুরোর বিদায়কে স্বাগত জানাবেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শরতেই ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ

স্থাপিত হয় এবং নভেম্বরের শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মাদুরোর ফোনালাপের পরও সেই

যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। ওই সময়ে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে দেশ ছাড়ার প্রস্তাব মাদুরো

প্রত্যাখ্যান করলেও ডিসেম্বর নাগাদ ডেলসি রদ্রিগেজ নিজের অবস্থানের কথা

যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন। আলোচনায় যুক্ত এক মার্কিন কর্মকর্তার

ভাষ্যমতে, ডেলসি তখন বলেছিলেন, ‘মাদুরোকে যেতে হবে। এরপর যা ঘটবে, আমি সেটার সঙ্গে

কাজ করব।’ শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিনির্ধারক মার্কো রুবিও এই যোগাযোগ নিয়ে

সন্দিহান থাকলেও পরে তিনি মনে করেন যে, মাদুরোর বিদায়ের পর ভেনেজুয়েলায় অরাজকতা

এড়াতে ডেলসি রদ্রিগেজের আশ্বাসই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ হতে পারে।

গোপন সম্পর্কের এই খবর এর আগে কখনো প্রকাশিত হয়নি, যদিও কাতারের মধ্যস্থতায় ডেলসি

রদ্রিগেজ নিজেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে প্রস্তাব করেছিলেন বলে গুঞ্জন

ছিল। অন্যদিকে, রয়টার্সের তথ্যমতে ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো

কাবেলোও অভিযানের কয়েক মাস আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছিলেন।

তবে সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে ডেলসি ও জর্জ রদ্রিগেজ সরাসরি মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত

করার কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন না; বরং তাঁরা কেবল মাদুরো পরবর্তী পরিস্থিতিতে

সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন। অভিযানের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিউইয়র্ক পোস্টের

কাছে আলোচনার বিষয়টি স্বীকার করে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বলেন, ‘আমরা তার সঙ্গে বহুবার

কথা বলেছি। তিনি বুঝেছেন।’

এই পুরো প্রক্রিয়ায় কাতারের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা ট্রাম্প

প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে ডেলসির জন্য আলোচনার পথ সুগম করেছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য ছিল মাদুরোর অপসারণের পর ভেনেজুয়েলাকে একটি ব্যর্থ

রাষ্ট্রে পরিণত হওয়া এবং গৃহযুদ্ধ থেকে রক্ষা করা। জানুয়ারির শুরুতে যখন মার্কিন

হেলিকপ্টার কারাকাসে প্রবেশ করে, তখন ডেলসি রদ্রিগেজ প্রকাশ্যে না থাকায় তাঁর

মস্কো পালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, সেই

সংকটময় সময়ে তিনি ভেনেজুয়েলার পর্যটন এলাকা মার্গারিটা দ্বীপে অবস্থান করছিলেন।

ক্ষমতা ও সম্পর্কের এই জটিল সমীকরণটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে

বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *