123 Main Street, New York, NY 10001

নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পরিদর্শনকালে দ্বিপাক্ষিক ভিসা জটিলতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সংস্কার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে আলোকপাত করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন কারণে ভিসা দেওয়া সীমিত রাখা হচ্ছে, ফলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও ভিসার পরিমাণ কমে যাচ্ছে। তবে তিনি আশাবাদী যে, দ্রুতই এই পরিস্থিতি উন্নতি হবে এবং ভবিষ্যতে ভিসা প্রদানের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও ফলপ্রসূ হবে। উপদেষ্টা বলেন, “ভারত নানা কারণে ভিসা দিচ্ছে না। সেই কারণে আমাদের পক্ষ থেকেও ভিসার সংখ্যা কম। তবে এটা সময়ের সঙ্গে ঠিকঠাক হয়ে যাবে। নতুন সরকার আসার পরে ডিউরেশন বা ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি আরও উন্নত হবে।” তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকাতে ইমিগ্রেশন পরিস্থিতি ও যাত্রী পরিবহণের হ্রাসের বিষয়টি তুলে ধরে জানান, বেনাপোল ও অন্যান্য প্রধান বন্দরগুলোর যাত্রী সংখ্যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

অতিরিক্ত তিনি বলেন, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরসহ অন্যান্য বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখন গুরুত্বপূর্ণ। সরকার যদি আঞ্চলিক বা উপ-মহাদেশীয় জটিলতা বা সম্পর্কের কারণে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে নতুন করে কার্যক্রম শুরু সম্ভব। বিশেষ করে, সরাসরি চীনে সড়ক পথ তৈরির পরিকল্পনা বর্তমানে বাস্তবসম্মত নয়, তবে নৌমন্ত্রীালয়ের মাধ্যমে ২০টি গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরের আধুনিকায়ন এবং কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, বর্তমান সরকার পোর্টগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ধারণে যে নকশা করছে, তা পরবর্তী সরকার তাদের ভিত্তিতে কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।

আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সম্পর্কের প্রসঙ্গে নির্বিকার এবং দূরদর্শী মন্তব্য করে তিনি জানান, চীনের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের জন্য বর্তমান বাস্তবতায় সম্ভব নয়। তবে, দেশের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের জন্য এই পরিকল্পনাগুলোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তার এই সফরটি মূলত নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ২০টি স্থলবন্দর পরিদর্শন ও আধুনিকায়নের অংশ, যেখানে তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন, ভবিষ্যতে সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও চলমান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত কঠোর ও দূরদর্শী মন্তব্য করেন। তিনি মনে করেন, অতীতের দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেতে বর্তমান সংস্কার প্রক্রিয়াকে সফল করে তুলতেই হবে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে যেন আবার কোনো দুঃশাসন বা অপ্রয়োজনের কর্মকাণ্ড ফিরে না আসে, যদি তা চান, তাহলে ভোটের সময় স্পষ্টভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়াটা জরুরি। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাবে।” এই নতুন সুযোগের মূল্যায়ন করে তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি আমরা এই সংস্কারগুলো না করি, তাহলে সেই অসাধারণ সুযোগ আমাদের হাতছাড়া হয়ে যাবে। এটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হবে না। আমাদের সচেতন থাকতে হবে।”

এ সময় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও অন্যান্য উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এই সফর মাধ্যমে তারা দেশের উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং স্থলবন্দর কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *