123 Main Street, New York, NY 10001

বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা আলোচিত দ্বীপ ভাসানচরের প্রশাসনিক সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সাথে বিভক্ত এই দ্বীপটিকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই সিদ্ধান্তটি অনুমোদনের জন্য গঠিত কারিগরি টিমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত ১৩ জানুয়ারি মন্ত্রণালয় একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কাছে পাঠিয়েছে, যাতে সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মং চিনু মারমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কারিগরি টিমের পর্যালোচনায় প্রমাণিত হয়েছে যে, ভাসানচরসহ মোট ছয়টি মৌজা সন্দ্বীপ উপজেলার ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত। ফলে, এই মৌজাগুলোর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সন্দ্বীপের আওতায় আনতে নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে চট্টগ্রাম জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, বিরোধপূর্ণ ছয়টি মৌজা—ভাসানচর, শালিকচর, চর বাতায়ন, চর মোহনা, চর কাজলা ও কাউয়ারচর—ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে (CSS) এবং স্থির মানচিত্রের (RS Map, PentaGragh ও Archives GIS) বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এগুলো মূলত সন্দ্বীপ উপজেলার অংশ। যদিও প্রাথমিক জরিপে ভুলবশত এ সব অঞ্চল হাতিয়ার জেলার অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল, তবে আধুনিক পর্যালোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, এগুলো আসলে সন্দ্বীপের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে পড়ে।

ভাসানচরের মালিকানা নিয়ে এই বিরোধের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস। ২০১০ সালে এই দ্বীপটি জেগে ওঠার পর ২০১৭ সালে তা রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের জন্য আলোচনায় আসে। অভিযোগ রয়েছে, সেই সময় তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ওবায়দুল কাদের তার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দ্বীপটি নিজ জেলা নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছিলেন। সন্দ্বীপের বাসিন্দাদের দাবি ও ক্ষোভ থাকলেও, তখনকার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তারা দৃঢ়ভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেননি। তবে, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সন্দ্বীপের সমস্ত মানুষ দ্বীপটিকে তাদের মানচিত্রে ফিরে পেতে সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নেন।

জনগণের এই দাবির প্রেক্ষিতে, মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট এলাকায় সীমানা বিতর্ক নিরসনে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। এই কমিটিতে সন্দ্বীপ ও হাতিয়ার প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ পেশাজীবীরা অংশ নেন। কয়েক দফা সভার পর, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা চূড়ান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। এই প্রতিবেদনে গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করা হয় যে, ভাসানচরসহ সংশ্লিষ্ট ছয়টি মৌজা সত্যিই সন্দ্বীপের অংশ। অভিন্ন প্রমাণ ও আধুনিক প্রযুক্তির বিশ্লেষণে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট হয় এবং অবশেষে ভূমি মন্ত্রণালয় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, ভাসানচরকে আবারও সন্দ্বীপের দ্বারা সংযুক্ত করা হবে। এই সিদ্ধান্তে দ্বীপটির মালিকানা ও বিভাগীয় সীমানা জটিলতা সমাধান হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *