123 Main Street, New York, NY 10001

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় অবস্থিত দেশের অন্যতম বড় প্রকল্প, মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে ভয়াবহ একটি অগ্নিকা- ঘটে যায়। এই অগ্নিকা-টিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে মহেশখালী ও চকরিয়া ফায়ার সার্ভিসের মোট ৬টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দীর্ঘ ৯ ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করেন। আগুনের সূত্রপাত হয় সোমবার রাত ৯টার দিকে, যখন বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরে অবস্থিত পরিত্যক্ত যন্ত্রাংশ ও লোহার মালামাল রাখার স্থানে এই অগ্নিকা- শুরু হয়। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে দ্রুত দমকলের কর্মীরা যান এবং আগুন পুড়িয়ে নিভাতে শুরু করেন। দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলা এই আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তবে বড় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

মহেশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন যে, এই অগ্নিকা-ের ফলে মূল উৎপাদন ইউনিট বা বয়লার ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। ফলে দেশের গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিকভাবেই অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানান, স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডটি মূল উৎপাদন এলাকার থেকে অনেক দূরে একটা পুকুরের মতো কাঠামোর ভেতরে অবস্থিত ছিল যেখানে অব্যবহৃত ও পুরনো লোহার যন্ত্রাংশ রাখা হতো। এই দূরত্বের কারণে আগুন মূল প্ল্যান্টে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কম ছিল। তবুও, এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি স্থান হওয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

অগ্নিকা-ের সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি, তবে মহেশখালী ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন কাদের জানিয়েছেন যে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই এলাকায় পথশিশুদের আনাগোনা বা দৌরাত্ম্য থেকেই এই অগ্নিকা-ের সূত্রপাত হতে পারে। তবে এটি কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য নয়, প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষ থেকে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্তের পরই ঘটনাটির প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে নাশকতা বা অবহেলার বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, ঘন কুয়াশা ও বাতাসের কারণে রাতের অন্ধকারে আগুন নিয়ন্ত্রণে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছিল। তবে বেলা শুরুর আগেই আগুন এত বেশি ছড়িয়ে পড়ার আগে তা নিয়ন্ত্রণে আনা যায় এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ধ্বংসাবশেষ থেকে ধোঁয়া বের হওয়া বন্ধ করার জন্য এখন শীতলীকরণ ও কুলিংয়ের কাজ চলছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের সম্পদ রক্ষায় এই ধরনের অগ্নিকা- আরও আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা চালু করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবেলা করা যায়। এই ঘটনাটি দেশের রক্ষা ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য এক সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *