123 Main Street, New York, NY 10001

রূপগঞ্জের পূর্বাচলে আয়োজিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার ৩০তম আসরে তুর্কি স্টলগুলো ছিল সবসময়ই কেন্দ্রবিন্দু। শুধু পণ্য নয়, এই স্টলগুলোতে থাকা তুর্কি নারীদের আতিথেয়তা এবং সাবলীল উপস্থাপনার কারণে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। মেলায় প্রবেশের মুহূর্তে চোখে পড়ে মনোমুগ্ধকর তুর্কি স্টলগুলো, যেখানে সাজানো রয়েছে ঐতিহ্যবাহী অটোমান যুগের মোজাইক ল্যাম্প, হাতে বোনা কার্পেট, সিরামিকের তৈজসপত্র এবং বিশ্ববিখ্যাত তুর্কি পারফিউম। স্টলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় সামাল দিতে বেশ কষ্ট হলেও, কর্মীদের জন্য এটি একটা স্বাভাবিক বিষয়।

তুর্কি স্টলগুলো এমনভাবেই ডিজাইন করা হয়েছে যেন দর্শনার্থীরা মনে করেন তারা তুরস্কের বিখ্যাত গ্র্যান্ড বাজারে রয়েছেন। স্টলের ছাদে ঝোলানো শত শত হাতে তৈরি মোজাইক গ্লাসের ল্যাম্প একটি মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এই ল্যাম্পগুলো তুরস্কের আনাতোলিয়ান সংস্কৃতির প্রতীক, আর বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য ঘর সাজানোর এক অনন্য পছন্দ। মেলায় আসা তুর্কি নারীরা শুধু বিক্রয়কর্মীই নন, বরং তারা তুরস্কের সাংস্কৃতিক দূত হিসেবেও কাজ করছেন। তারা দর্শনার্থীদের তুর্কি কায়দায় অভিবাদন জানাচ্ছেন। অনেক স্টলে ছোট ছোট কাপে ঐতিহ্যবাহী তুর্কি চা বা কফি দিয়ে আপ্যায়ন করা হচ্ছে, যা ভিন্ন ভাষায় কথা বললেও ভাঙা বাংলা ভাষায় কখনো ‘কেমন আছেন’, কখনো ‘ধন্যবাদ’ বলে দর্শকদের কাছে খুব সহজে পৌঁছে যাচ্ছেন।

বেশ কিছু তরুণ তরুণীর মধ্যে তুর্কি প্রতিনিধিদের সাথে সেলফি তোলার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এই ল্যাম্পগুলোর বিভিন্ন আকার ও কারুকাজের দাম ১,৫০০ থেকে শুরু করে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

অটোমান আমলের ডিজাইনের আংটি, ব্রেসলেট ও গলার হারও ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, যার মূল্য ২,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকার মধ্যে। সিল্ক ও পশমের তৈরিকৃত অরিজিনাল তুর্কি কার্পেটগুলো তুলনামূলক দাম বেশি হলেও এর স্থায়িত্ব ও রাজকীয় লুকের জন্য উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়। তুর্কি রোজ ওয়াটার ও পারফিউমের দাম ৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত নেমে আসে।

বৈধভাবে অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে মেলা কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। স্টলের আশেপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা বৃদ্ধি করা হয়েছে, পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবীরা ভিড় নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন, যাতে নারীরা স্বাচ্ছন্দ্যে কেনাকাটা করতে পারেন।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন (শুক্র ও শনিবার) এড়িয়ে সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতে দুপুরের পর মেলায় ঘুরতে যাওয়া উপযুক্ত।

পরিদর্শকদের মধ্যে মায়মুনা ইয়াসমিন মারিয়া বলেন, ‘তুর্কি ল্যাম্পগুলো দেখতে যেমন সুন্দর, এখানকার পরিবেশও খুব দারুণ। বাবা-মাসহ মেলায় ঘুরতে এসে খুবই ভালো লাগছে।’

বিভিন্ন রঙের আলোকসজ্জা পণ্যগুলো স্টলের সৌন্দর্য বদলে দিয়েছে। বিশেষ করে তুরস্কের অলিভ অয়েল কসমেটিকস এবং পাথরের গহনা নারীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তুরস্কের প্রতিনিধিদের বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার এবং তাদের সংস্কৃতি দর্শনার্থীদের কাছে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

মেলার শুরুর দিন থেকেই বিদেশি স্টলগুলোতে বিক্রির পরিমাণ আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে তুরস্ক, ইরান ও ভারতের স্টলগুলোতে ক্রেতাদের চাপ বেশিই লক্ষ্য করা গেছে।

এবারের মেলায় প্লাস্টিকের সিংগেল ইউজ এবং পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পরিবর্তে, পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ হ্রাসমূল্যে সরবরাহ করা হবে, যা বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রবেশপ্রাপ্ত।

মেলার লে-আউট পরিকল্পনায় ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন, স্টল, রেস্টুরেন্ট, দেশীয় ও বিদেশি কোম্পানি, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *