123 Main Street, New York, NY 10001

গ্রিনল্যান্ড দখলের সম্ভাবনা নিয়ে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী কড়া সতর্কতা জারি করার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এই দ্বীপটিকে আমাদের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করা। সোমবার (৫ জানুয়ারি) তিনি আবারও দাবি করেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড আমাদের প্রয়োজন। ট্রাম্প আগে থেকেই বারবার এই দাবি করে আসছেন, বিশেষ করে ৪ জানুয়ারি তিনি উল্লেখ করেন গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান, প্রতিরক্ষা গুরুত্ব ও বিপুল খনিজ সম্পদের কথা। ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে গ্রিনল্যান্ডের জন্য একজন বিশেষ দূত নিয়োগ করেছে, যা ডেনমার্কের মধ্যে ক্ষোভের কারণ হয়েছে।

এদিকে, গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডেরিক নিলসেন কঠোর বক্তৃতায় প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বলেন, এই বিষয়গুলো আর মানা যায় না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এখন থেকে কোনো চাপ, কোনো ইঙ্গিত বা সংযুক্তির আশা যেন না করা হয়। আমরা সংলাপের জন্য উন্মুক্ত, আলোচনার পথে যেতে চাই, তবে সবকিছু সঠিক চ্যানেল ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে হওয়ার দরকার। নিলসেন আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের সংযুক্তির ধারণা কল্পনাও করবেন না।

প্রাক্তন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরיקסেন বলেছিলেন, ড্যানিশ রাজ্যের অন্তর্গত কোনও দেশেরই উচিত নয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা। তিনি আরও বলেন, ডেনমার্কের আওতায় থেকেই গ্রিনল্যান্ড ন্যাটো জোটের সদস্য ও প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় রয়েছে। ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের উত্তাপের মধ্যে, ডেনমার্কের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে একটি মানচিত্রের উপর লেখা “শিগগিরই” বিষয়ক বার্তা দেন, যেখানে গ্রিনল্যান্ডের মানচিত্রে আমেরিকার পতাকার রঙ ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ওই পোস্টের জবাবে, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত টাই মরগ্যান জাটসেন একটি বার্তা দেন, যেখানে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে। তিনি উল্লেখ করেন, ডেনমার্ক তার ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রত্যাশা করে। কেটি মিলার একজন ডানপন্থি পডকাস্টার ও ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তার সহকারী ছিলেন।

এক্ষেত্রে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সামনে আসার সময় যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীর আটক করে। পরে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, দেশের তেলসম্পদ কাজে লাগানোর জন্য তারা ভেনিজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ নেবে। এই ঘটনাগুলো নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে যে, ট্রাম্প হয়তো আবারও শক্তি প্রয়োগ করে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইতে পারেন। এর আগে তিনি এই সম্ভাবনা নাকচ করেননি।

ট্রাম্পের দাবি, গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হলে দেশটির নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে, কারণ আর্কটিক অঞ্চলের এই বিশাল দ্বীপটির কৌশলগত গুরুত্ব অনেক, এবং সেখানে উচ্চপ্রযুক্তি খাতে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ খনিজ সম্পদ রয়েছে।

প্রায় ৫৭ হাজার জনসংখ্যা বিশিষ্ট এই দ্বীপটি ১৯৭৯ সাল থেকে ব্যাপক স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে। তবে এখনো এর পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিষয়গুলো ডেনমার্কের হাতে রয়েছে। ভবিষ্যতে অধিকাংশ গ্রিনল্যান্ডবাসী স্বাধীনতা চান, তবে জনমত জরিপে দেখা গেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার বিষয়ে ব্যাপক ও দৃঢ় বিরোধী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *