123 Main Street, New York, NY 10001

শরীয়তপুরের অকুতোভয় বীরাঙ্গনা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা যোগমায়া মালো আর নেই। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ও দুরারোগ্য ক্যানসার সহ সহনশীল সংগ্রামের পর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সেই দিনটি ছিল গত সোমবার, দুপুরের দিকে তাঁর নিজ বাসভবনে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। এই বীর নারীর মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ছড়িয়ে পড়েছে। বিকেলে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের আগে বাংলাদেশ সরকারীভাবে তাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা প্রদান করেন এবং মরহুমার আত্মার শান্তির জন্য শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

যোগমায়া মালোর জীবন history ছিল একাত্তরের মহা কঠিন সময়ের অসীম ত্যাগের এক অনন্য কাহিনী। ১৯৭১ সালের ২২ মে, শরীয়তপুর সদরের মনোহর বাজারের দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় তাণ্ডব চালাচ্ছিল, তখন কেবল ১৫ বছরের এক কিশোরী গৃহবধূ ছিলেন যোগমায়া মালো। ওই দিন ঘর থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে তাঁকে মাদারীপুরের এআর হাওলাদার জুট মিলের কারখানায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে কমপক্ষে ১০০ জন নারী-পুরুষকে বন্দি করা হয়। সেই সময় পুরুষদের নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হলেও নারীদের উপর তিন দিনব্যাপী চালানো হয়েছিল পাশবিক নির্যাতন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা সত্ত্বেও যোগমায়া মালো জীবনের জন্য লড়াই করে ফিরে এসেছিলেন। দীর্ঘ ৪৭ বছর পর ২০১৮ সালে তিনি রাষ্ট্রীয়ভাবে বীরাঙ্গোনা হিসেবে স্বীকৃতি পান।

তার জামাতা সুভাষ দাড়িয়া জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন তাঁর শাশুড়ি। শেষ সময়ের দিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মর্যাদাপূর্ণভাবে গৃহীত হওয়ায় তার পরিবার কৃতজ্ঞ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন যোগমায়া মালোর অবদানের স্মরণ করে বলেন, সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তিনি শান্তিতে জীবন যাপন করতে পারছিলেন। দেশের জন্য তাঁর আত্মত্যাগ ও দেশের প্রতি গভীর প্রেমের ইতিহাসত শরীয়তপুরের মানুষ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দীর্ঘদিন স্মরণ করবেন। প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে পারিবারিকভাবে তাঁকে সম্মানের সঙ্গে বিদায় জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *