123 Main Street, New York, NY 10001

বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে ভারতীয় মঞ্চে জনপ্রিয় আইপিএল দলের কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে বাদ দেওয়ার ঘটনাটি এখন ভারত-বাংলাদেশের ক্রিকেট ও কূটনীতির মধ্যে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করেছে। ভারতের কিছু উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর চাপের মুখে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) কেকেআরকে নির্দেশ দেয় মোস্তাফিজকে স্কোয়াড থেকে রিসিট করতে। এই ঘটনায় বাংলাদেশের প্রভাবশালী দুটি সরকারি উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং মোস্তফা সরোয়ার ফারুকি সোশ্যাল মিডিয়ায় পৃথক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে নিন্দনীয় এবং দেশের জন্য অপমানজনক বলে উল্লেখ করেছেন।

ড. আসিফ নজরুল বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলোর মুখে হার মানানো বা পেশাদার ক্রিকেটারদের উপেক্ষা করা উচিত নয়। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) আইসিসির কাছে এই ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর মতে, যেখানে বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার ভারতীয় নিরাপত্তায় উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন, সেখানে দেশের সম্পূর্ণ দলের নিরাপত্তার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে পড়ে। তিনি আরও পরামর্শ দেন, আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করার প্রস্তাব দেওয়া উচিত। এর পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগতভাবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কেও আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের জন্য অনুরোধ জানান।

অন্যদিকে, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকিও এই ঘটনার প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেন, মোস্তাফিজের সঙ্গে এ ধরনের অবিচার ও অপমান অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেন, বাংলাদেশি নাগরিকেরা এর মধ্যে ঘৃণার রাজনীতির প্রভাব দেখেছেন এবং গভীরভাবে ব্যথিত হয়েছেন। তিনি জানান, অনেক সাধারণ মানুষ আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধের দাবিতে তার কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন, যা তিনি কর্তৃপক্ষের সম্মুখে প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করেন যে, ভারতের মাটিতে বাংলাদেশি ক্রিকেট বা ফুটবল দলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

মোস্তাফিজকে কেকেআর ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কেনার পর এমন অপ্রত্যাশিত বিদায়ের প্রতিবাদে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই আইপিএল বয়কটের পাশাপাশি ভারতীয় মাটিতে ভারতীয় দলের জন্য খেলবেন না বলে জানাচ্ছেন। উপদেষ্টাদের সরাসরি এরকম অবস্থান এই আন্দোলনকে আরো জোরালো করে তুলেছে। সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের এই মনোভাব এই সংকটের মধ্যে ভবিষ্যতে আরও কঠোর সিদ্ধান্তের সম্ভাবনাও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে, যদি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আইপিএল এর সম্প্রচার বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে এটি বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের এক প্রতিরোধের অংশ হবে। বর্তমানে এই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো আইনগত ও কৌশলগত দিকগুলো বিবেচনা করছে।}

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *