123 Main Street, New York, NY 10001

ইরানে চলমান ভয়াবহ বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তীব্র সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তারা স্পষ্টভাবে বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি এই পরিস্থিতিতে intervention করেন, তাহলে তা শুধুমাত্র ইরানকে নয়, সম্পূর্ণ মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। এতে অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মার্কিন স্বার্থও মারাত্মকভাবে ঝুঁকিতে পড়বে।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান আলি লারিজানি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ট্রাম্পের উচিত এখন থেকেই বুঝে নেওয়া যে, এই অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে আমেরিকার যে কোনো হস্তক্ষেপ পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি করবে এবং এর ফলাফল সমগ্র অঞ্চলের জন্য ভয়ানক হবে। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের কোনও পদক্ষেপ সম্পূর্ণরূপে সংকট ঘনীভবনের দরজা খুলে দেবে এবং এর ফল স্বরূপ আমেরিকার স্বার্থ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

অতীতে, ট্রাম্প ইরানে চলমান আন্দোলনে সাময়িকভাবে পক্ষ নেয়ার ইঙ্গিত দেন। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে। তার এই মন্তব্যের পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে।

এদিকে, একই দিনে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলি শামখানিও মার্কিন রাষ্ট্রপতিকে সতর্ক করেন। তিনি এক পোস্টে জানান, কোনো অজুহাতে ইরানের নিরাপত্তায় আঘাত হানা হলে তার জবাব দেয়া হবে। শামখানির ভাষায়, ইরানের নিরাপত্তা যেন একটি ‘রেড লাইন’। তিনি আরও বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনও হস্তক্ষেপের পরিকল্পনা ইরান মেনে নেবে না এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা করতে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

বর্তমানে, ইরানে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। এসব বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এর মধ্যেই, মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্য ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারি নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের নিরাপত্তা মহলের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, যদি ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে নিজেদের রক্ষার জন্য ক্ষমতা ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর তারা কতটুকু আত্মবিশ্বাসী।’দ্য টাইমস অব ইসরায়েল’ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্লেষকেরা ক্রমশ বুঝতে পারছেন যে, পরবর্তী বড় ধরনের সংঘাতে ইসরায়েল আগের চেয়ে কম প্রস্তুত। মূল কারণ হচ্ছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ক্রমশ বেড়ে চলেছে। গত বছরের জুনে ১২ দিনব্যাপী সংঘাতের আগে এর শক্তি ছিল অনেক কম।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় ইসরায়েলের মোতায়েন অবস্থানে সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। যখন তেহরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার আধুনিকায়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র প্রচুর চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি ভবিষ্যতের ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধের ধারনাকে মৌলিকভাবেই বদলে দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *