123 Main Street, New York, NY 10001

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে আশা প্রকাশ করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নতুন বছর উপলক্ষে দেয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত ইউক্রেন যুদ্ধের ফলাফল রাশিয়ার পক্ষে থাকবে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি দেশবাসী ও বিশ্বে রাশিয়ার বিজয়ের আশ্বাস দিলেন।

প্রেসিডেন্ট পুতিন গুরুত্ব説 করে উল্লেখ করেন, তিনি প্রায় চার বছর আগে ইউক্রেনে এক পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরু করেছিলেন। জানুয়ারির প্রথম দিন, ৩১ ডিসেম্বর, টেলিভিশনে দেখানো ভাষণে স্থানীয় সামরিক বাহিনীর পাশে থাকার জন্য রুশ নাগরিকদের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা আপনারা বিশ্বাস করি—আমাদের বিজয়ও নিশ্চিত।’ তবে তিনি স্বীকার করেন, যুদ্ধের ফল এখনো অনিশ্চিত, কারণ একদিকে শান্তি আলোচনা চললেও, অন্যদিকে তীব্র লড়াই চলছে। ফলে পরিস্থিতি এখনও জটিল ও অস্থির।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাষণটি ২৬ বছর আগে প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিনের নববর্ষের ভাষণের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। সেবার তিনি হঠাৎ করে পদত্যাগ করে পুতিনকে ক্ষমতা দিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর থেকেই পুতিন দেশকে নিজের মতো করে পরিবর্তন করে চলেছেন। তিনি কখনো স্টালিন যুগের আদর্শের ইতিবাচক দিক তুলে ধরেছেন, আবার কখনো সোভিয়েত ইউনিয়নের বিভক্তি ও তার পরের অপমানের অভিজ্ঞতা বলেও উল্লেখ করেছেন।

পুতিনের শাসনের সময়ে চেচনিয়া অভিযান, জর্জিয়া আক্রমণ, সিরিয়ায় Assad সরকারের সহায়তা—এসব ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এসব অভিযানে বেসামরিক মানুষের ওপরও হামলার অভিযোগ ওঠে। পশ্চিমা বিশ্ব উদ্বিগ্ন, যদি এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে, তবে এটি ইউক্রেনের বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে।

অন্যদিকে, নববর্ষের ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, তারা শান্তি চান, তবে সেটা দুর্বল বা অপ্রত্যাশিত চুক্তি নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা যুদ্ধের শেষ চাই, কিন্তু ইউক্রেনের শেষ চাই না।’ তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শান্তিচুক্তি প্রায় প্রস্তুত, তবে এখনো ১০ শতাংশ বাকিটা পুরোপুরি নির্ধারিত হয়নি, যা জাতির ভাগ্যনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রাশিয়া এক ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করে, ইউক্রেন পুতিনের নোভগোড়ো অঞ্চলের বাসভবনে হামলা চালানোর জন্য ড্রোন ব্যবহার করেছিল। তবে কিয়েভ এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, এটি তৈরি করা ঘটনা এবং রাশিয়া বা মস্কো আক্রমণ বাড়ানোর জন্য এই ধরনের অভিযোগ করে চলেছে। রাশিয়া নিশ্চিত করেছে, তারা ৯১টি ড্রোন ধ্বংস করেছেন, কেউ হতাহত হয়নি এবং পুতিনের বাসভবন অক্ষত রয়েছে।

উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে যে, পুতিনের বাসভবনে হামলার এই দাবি আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত ও পাকিস্তান এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, কিয়েভের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এই ঘটনা পুরোপুরি ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার মত কিছুই নয়, বরং এগুলো রাশিয়ার অপরাধ ও আক্রমণ বাড়ানোর একটি অজুহাত মাত্র। পশ্চিমা মিত্ররাও এই রুশ দাবির সত্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *