123 Main Street, New York, NY 10001

২০২৫ সালটি বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি বিশেষ এবং স্মরণীয় বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এই এক বছরে বিশ্ব ক্রিকেট তারকারা একের পর এক মাঠ থেকে অবসর নিয়েছেন, যা ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য দুঃখের আর শূন্যতার এক নানা অনুভূতির সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ থেকে শুরু করে ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো বড় বড় দেশগুলোর কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা নিজেদের ক্যারিয়ারের ইতি টানেন, সব মিলিয়ে নতুন প্রজন্মের জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ ও নতুন সূচনার সুযোগ খুলে গিয়েছে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই বছর ছিল বড় ধরনের রদবদল ও রূপান্তরের বছর। বছরের শুরুতেই ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসের একজন অন্যতম সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল তার দীর্ঘ ও গৌরবময় আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অবসান ঘটান। এরপর মার্চে মুশফিকুর রহিমের দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে চালানো ওয়ানডে ক্যারিয়ার শেষ হয়, যিনি এর আগে টি-টোয়েন্টিতে নিজেকে জামানত করেছিলেন। পাশাপাশি, ‘সাইলেন্ট কিলার’ খ্যাত মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর সীমিত ওভারের ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করে এক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন। একইসাথে, ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় শামসুর রহমানও এই বছর নিজের দীর্ঘ পেশাদার ক্যারিয়ার সমাপ্ত করেন।

ভারতীয় ক্রিকেটেও এই বছর ছিল বিদায়ের মঞ্চ। মে মাসে ইংল্যান্ড সফরের আগে বলোড কে-তীয়ত তার টেস্ট ক্যারিয়ার থেকে অবসর নেন আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম আইকন বিরাট কোহলি। ১২৩ টেস্টে ৩০টি সেঞ্চুরিসহ ৯ হাজার ২৩০ রান করে তিনি ক্রিকেটের ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখা হয়। এর কিছুদিন পর টেস্ট ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন সফল অধিনায়ক ও ওপেনার রোহিত শর্মা। অন্যদিকে, কিছু বিতর্কের মাঝেও, ধীরে ধীরে চোট আর পারফরম্যান্স কমে আসার কারণে আইপিএলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করতে না পারা ওপেনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন। চেতেশ্বর পূজারা, ঋদ্ধিমান সাহা, অমিত মিশ্র, মোহিত শর্মা ও বরুণ অ্যারনসহ আরও বেশ কিছু অভিজ্ঞ ক্রিকেটার এই বছর ক্যারিয়ার শেষ করেন।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অন্যতম বড় চমক ছিল অস্ট্রেলিয়ার তারকা ব্যাটসম্যান স্টিভ স্মিথের ওয়ানডে থেকে অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্ত। দুটি বিশ্বকাপ জেতা এই ক্রিকেটার ৩৫ বছর বয়সে এই ফরম্যাট থেকে বিদায় নেন। নিউজিল্যান্ডের মার্টিন গাপটিল, যিনি ২০১৫ বিশ্বকাপে রেকর্ড করেছেন, তারাও এ বছর সব ধরনের ক্রিকেট থেকে ফের বিদায় নেন। শ্রীলঙ্কার প্রাক্তন অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নে তার ১০০তম টেস্ট খেলা শেষে সব ফরম্যাট থেকে অবসর নেন। আর আফগান পেসার শাপুর জাদরানও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের যে অধ্যায় শেষ করেছেন। এই প্রিয় খেলোয়াড়দের অবসর—a ক্রিকেট বিশ্বকে একদিকে কাঁদিয়েছে, অন্যদিকে নতুন প্রতিভাদের জন্য পথ উন্মুক্ত করেছে। প্রতিটি বিদায়ের অনুপ্রেরণা, সাফল্য আর মাঠের অম্লান স্মৃতি আজও হাজারো ক্রিকেট প্রেমীর হৃদয়ে অমোঘ হয়ে থাকঁ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *