123 Main Street, New York, NY 10001

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানে দায়িত্বরত পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান নতুন একটি দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ডের রায় পাওয়ার পর দেশের উত্তাল পরিস্থিতিতে দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আপিলের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও ঘোষণা করেছেন।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) কারাগার থেকে তার আইনজীবীর সঙ্গে কথোপকথনের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক বার্তায় ইমরান খান জানান, তিনি খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদিকে রাজপথে আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, পুরো জাতিকে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য একজোট হয়ে বিশিষ্ট অবস্থানে দাঁড়াতে হবে।

কারাগারে থাকায় ইমরান খানের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার না করলেও, আইনি প্রতিনিধির মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই রায় তার জন্য অবাক করার মতো কিছু নয়। তবে তিনি তার আইনি দলকে এই রায়ের বিরুদ্ধে দ্রুত হাইকোর্টে আপিল করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ইমরান খান অভিযোগ করেন, গত তিন বছরে বিভিন্ন ভিত্তিহীন রায় ও সাজা দেওয়া হয়েছে, আর এটাই তার ব্যতিক্রম নয়। তিনি বলেন, কোনো প্রমাণ ছাড়া, দ্রুত বিচার করে এই রায় কার্যকর করা হয়েছে, তার আইনজীবীদের বক্তব্য শুনতেই দেয়া হয়নি।

তার দাবি, সংবিধানের পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া দেশের উন্নতি সম্ভব নয়। তিনি আরও বলছেন, ইনসাফ লইয়ার্স ফোরাম ও দেশের আইনজীবীরা একযোগে ন্যায়ের জন্য পথে নামতে বাধ্য হবে।

পিটিআই এক বিবৃতিতে এই রায়কে ‘সাবেক আইনানুগ ও সংবিধানবিরোধী, বিদ্বেষপূর্ণ এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জঘন্য দৃষ্টান্ত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। দলটির নেতারা অভিযোগ করেন, এই সাজা দীর্ঘায়িত করতে পরিকল্পিতভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে যাতে শাসকগোষ্ঠী সাময়িক স্বস্তি পায় এবং আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।

পিটিআই আরও বলছে, পাকিস্তানে আইনের শাসন ভেঙে পড়ছে এবং পরিকল্পিতভাবে বিচার ব্যবস্থাকে দলীয় করে না নিয়ে একটি ‘অনুগত’ বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এদিকে, দলের কেন্দ্রীয় নেতা সালমান আকরাম রাজা এবং সুপ্রিম নেতা আসাদ কায়সার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইমরান খান দেশের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, তিনি দৃঢ়ভাবে তার অবস্থানে থাকবেন এবং কোনোভাবেই ক্ষমা চাইবেন না। তারা অভিযোগ করেন, মামলাটি কেবল সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তি ছাড়া সাজানো হয়েছে, যেখানে শুধুমাত্র একটি ‘বিশ্বাসযোগ্য’ প্রমাণের অভাব রয়েছে। তারা আরও বলেন, এই মামলার একমাত্র সাক্ষী সেই ব্যক্তি, যাকে ইমরান খান নিজেই সামনে এনেছিলেন।

আসাদ কায়সার জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই, তবে সেটি হবে গণতান্ত্রিক ও সংবিধানসম্মত। পিটিআই তাদের প্রতিষ্ঠাতার জন্য ন্যায়ের জন্য লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।

পিটিআইয়ের কেন্দ্রীয় তথ্য সম্পাদক শেখ ওয়াকাস আকরাম জানান, ইমরান খানের পরিবারকেও নির্মমভাবে কারাগারে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, এক ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের’ মাধ্যমে এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনি নিয়মেরও লঙ্ঘন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এটি দ্বিতীয় দণ্ড, যা সংবিধান ও দেশের আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

অন্যদিকে, ইমরান খানের বোন আলিমা খান সংবাদ মাধ্যমে বলেন, এই রায় একটি ‘পূর্বনির্ধারিত চিত্রনাট্য’ অনুসারে দেওয়া হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, যারা এই মামলার নেপথ্যে রয়েছেন তারা ‘অবিবেচক’ এবং এই সিদ্ধান্তের পেছনের পরিকল্পনাও বোঝা যাচ্ছে না।

আলিমা খান আরও বলেন, গভীর রাতে দ্রুত রায় ঘোষণা করার জন্য কুয়াশার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১০ বা ১৪ বছর সাজা দিলেই কি হয়? ইতিমধ্যে বহুদিনের সাজা ভোগ করছে ইমরান খান।

তিনি বলেন, জনগণের ধৈর্য এখন শেষ, এবং ছয় মাসে একবার করে নতুন রায় দেওয়ার পরিকল্পনা দলটির পক্ষে মানা সম্ভব নয়। পাশাপাশি, তিনি বুশরা বিবির আচরণের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন এবং তাকে ‘অবৈধ বন্দিত্বে’ রাখা নিয়ে সমালোচনা করবেন।

অন্যদিকে, পিটিআই নেতা ওমর আউয়ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার স্ত্রীর জন্য দেওয়া এই সাজা ‘ক্যাঙ্গারু কোর্টের’ রায়, যা একটি রাজনৈতিক নাটক এবং পাকিস্তানে আইনের শাসনের অভাবের দৃষ্টান্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *