123 Main Street, New York, NY 10001

ভেনিজুয়েলার উপকূলের আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের (ডিডিএস) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ভেনিজুয়েলা থেকে যাত্রা করার এই জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের নজরে আসে এবং অবশ্যই জব্দ করা হয়। এটি চলতি মাসের মধ্যে গভীরভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা আটক করা দ্বিতীয় তেলবাহী ট্যাংকার।

এই কঠোর পদক্ষেপটি এমন সময় নেওয়া হলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন— ভেনিজুয়েলায় প্রবেশ ও সেখান থেকে বের হওয়ার জন্য সব ধরনের তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, যার অর্থ এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধে তিনি অবরোধের নির্দেশ দিয়েছেন।

ভেনিজুয়েলা সরকার এই ঘটনাটিকে কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি এক ধরনের চুরি ও অপহরণ। দেশটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সবসময় তাদের প্রাকৃতিক সম্পদ লুটের চেষ্টা করে আসছে। এর বিরুদ্ধে তারা দৃঢ়ভাবে বলে, এ ধরনের অপপ্রয়াসের জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হবে এবং বিষয়গুলো জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার নজরে আনা হবে।

মার্কিন কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানটিতে রয়েছে একজন ট্যাকটিক্যাল বিশেষজ্ঞ দল, যারা আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থানকালে এই জাহাজটিকে জব্দ করে। এর আগে এই মাসে একই ধরনের আরও একটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন স্বরাষ্ট্র বিভাগের সচিব ক্রিস্টি নোয়েম এক্স-এ একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে দেখা যায়, ‘সেঞ্চুরিজ’ নামের একটি জাহাজের ডেকে মার্কিন হেলিকপ্টার অবতরণ করছে। তিনি লিখেছেন, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত তেল পরিবহন বন্ধের জন্য অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।

ভিডিওটির দৈর্ঘ্য সাত মিনিটের, যেখানে দেখা যায় জাহাজের ডেকে অবতরণ করছে মার্কিন হেলিকপ্টার। নোয়েম বলেন, এই অবৈধ তেল পরিবহন, যা মাদক ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন করছে, তাদের বিপক্ষে মার্কিন সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

‘সেঞ্চুরিজ’ নামে এই পানামার পতাকাবাহী জাহাজটি গত পাঁচ বছরে গ্রিস ও লাইবেরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের পতাকায় চলাচল করেছে। তবে, এটি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নিষেধাজ্ঞায় থাকা জাহাজের তালিকায় স্থান পায়নি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ক্যারিবিয়ান সাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময় ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে, মাদক পাচারকারীদের উপর হামলায় প্রায় ১০০ জন নিহত হয়েছে; যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযানের সত্যতা বা প্রমাণ প্রকাশ করেনি। এর ফলে কংগ্রেসে মার্কিন সামরিক অভিযান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

মার্কিনরা ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ‘কার্টেল দে লস সোলেস’ নামে এক সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগও তোলে, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে, এই গোষ্ঠী চুরি করা তেল বিক্রি করে, যা মাদক, সন্ত্রাস, মানবপাচার, হত্যা ও অপহরণের মতো অপরাধে অর্থ জোগান দেয়।

দ্বিতীয় জাহাজটি জব্দের পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক্স-এ লিখেছেন, অবৈধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও জানান, পশ্চিম গোলার্ধে কোনও ধরনের অস্থিতিশীলতা, মাদক ও বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না।

ভেনিজুয়েলায় অন্যতম বড় তেল রিজার্ভের কারণে দেশটি মূলভাবে অর্থনীতির পরিচালনায় তেল রপ্তানি থেকে অর্জিত আয়ের ওপর heavily নির্ভরশীল।

অবশেষে, ট্রাম্পের ‘ব্লকেড’ ঘোষণার এক সপ্তাহের মধ্যে, যুক্তরাষ্ট্র আরও একটি তেলবাহী জাহাজ ‘স্কিপার’ নামে আটক করে। হোয়াইট হাউসের দাবি, এই জাহাজটি ‘ঘোস্ট ফ্লিট’ এর অংশ, যা অবৈধভাবে তেল পরিবহন করত এবং মার্কিন বন্দরে নেয়া হবে। সেই সময়ও ভেনিজুয়েলা সরকার এর তীব্র প্রতিবাদ জানায়, প্রেসিডেন্ট মাদুরো অভিযোগ করেন, মার্কিন নৌবাহিনী নাবিকদের অপহরণ করেছে ও জাহাজটি চুরি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *