123 Main Street, New York, NY 10001

গত তিন দিনের মধ্যে ভরিতে স্বর্ণের দাম বেড়েছে মোট ৪ হাজার ৫০২ টাকা। এর ফলে রোববার (১৪ ডিসেম্বর) থেকে ভালো মানের, অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার টাকায়। বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির ফলেই দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের এই উর্ধ্বগতির প্রবণতা।

বাংলাদেশের জুয়েলার্স সমিতি গত শুক্রবার স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়েছিল, এবং রোববার থেকে আরও ৩ হাজার ৪৫২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর মানে, তিন দিনে মোট দাম বেড়েছে সাড়ে ৪ হাজার টাকা। এর আগে, বিশ্ববাজারে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৩০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

নতুন দর অনুযায়ী, রোববার থেকে হলমার্ক করা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ টাকা, যা শনিবার ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৫ টাকা। অর্থাৎ, শনিবারের তুলনায় রোববারের দামে বৃদ্ধি হয়েছে ৩ হাজার ৪৫২ টাকা।

এছাড়াও, হলমার্ক করা ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের এক ভরি দাম বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ৮০০ টাকা, যা আগে ছিল ২ লাখ ২ হাজার ৪৯৯ টাকা। এই দামে বৃদ্ধি এসেছে ভরিতে ৩ হাজার ৩০১ টাকা।

অন্যদিকে, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দামও বেড়েছে ২ হাজার ৮২৩ টাকায়। এখন এর এক ভরি মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯৫ টাকা। পাশাপাশি, সনাতন পদ্ধতিতে বিক্রিত স্বর্ণের দামও ২ হাজার ৪১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে এখন ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৩৮ টাকা। এর আগে এর মূল্য ছিল ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৪ টাকা।

এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গোল্ডম্যান স্যাক্স মনে করছে, স্বর্ণের দামের ভবিষ্যৎ বৃদ্ধি ততটা প্রত্যাশিত নয়; বরং, কিছু বিনিয়োগকারীর স্টক বা অন্য কোনও বিনিয়োগের পাশাপাশি স্বর্ণ কেনাকাটাও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যত বেশি বিনিয়োগ হবে, স্বর্ণের দাম তার চেয়েও বেশি বাড়বে বলে তারা মনে করছেন।

গোল্ডম্যান স্যাক্স আরও জানাচ্ছে, আগামী বছর স্বর্ণের দাম খুব বেশি বাড়বে না। তবে, চলতি বছর স্বর্ণের দামের বৃদ্ধির পেছনের মূল দুই কারণ অব্যাহত থাকবে। প্রথমত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো স্বর্ণ সংগ্রহ চালিয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত, ফেডারেল রিজার্ভ নীতি সুদ কমানোর ধারা বজায় রেখেছে। ডিসেম্বরে এই নীতি সুদহার আরও কমে গেছে।

বিশ্ব রাজনীতিতে চলমান অস্থিরতা, এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাণিজ্যনীতি ব্যবহার, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নিরাপদ বিনিয়োগের ওপর আকর্ষণ বাড়াচ্ছে। মার্কিন ডলারভিত্তিক বন্ডের চেয়ে স্বর্ণে বিনিয়োগ অনেক বেশি নিরাপদ মনে করছেন তারা। এই সকল কারণ মিলিয়ে স্বর্ণের দাম ভবিষ্যতেও কিছুটা বাড়তে পারে বলে ধারণা বিক্রেতাদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *