মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, মেরিন ফিশারিজ একাডেমি থেকে সঙ্গঠিত প্রশিক্ষণ গ্রহন করে ক্যাডেটরা এখন গভীর সমুদ্রের সাহসী ও অকুতোভয় কাণ্ডারি হিসেবে নিজেদের পরিচিত করছে। মঙ্গলবার সকালে মেরিন ফিশারিজ একাডেমির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ৪৪তম পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন মেরিন ফিশারিজ একাডেমির অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ হাসান।
উদ্বোধনী ভাষণে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার উল্লেখ করেন, কঠোর অধ্যবসায় এবং কঠিন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত এই জ্ঞান ক্যাডেটদের ভবিষ্যতের কর্মজগতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এখন তারা একাডেমির সীমাবদ্ধ পরিবেশ ছেড়ে পেশাদার জীবনের বৃহত্তর অঙ্গনে প্রবেশের জন্য প্রস্তুত। তাদের উন্নতির জন্য মূল ভিত্তি হলো কঠোর পরিশ্রম, সময়ানুবর্তিতা, সততা, কর্মদক্ষতা, মূল্যবোধ এবং দেশপ্রেম। এই মূল্যবোধগুলো ধারণ করে তারা নিজ নিজ দায়িত্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করলে দেশের মর্যাদা আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উপদেষ্টা ক্যাডেটদের মধ্যে বিভিন্ন বিভাগে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারীদের মধ্যে পদক বিতরণ করেন। বিশেষ উল্লেখ করে খন্দকার তানভীর ইসলাম (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং) ‘বেস্ট অল রাউন্ডার গোল্ড মেডেল’ লাভ করেন। এছাড়াও, অন্যান্য বিভাগে ‘বেস্ট ইন প্রফেশনাল ট্রেনিং সিলভার মেডেল’ পান জাবের শাহরিয়ার (নটিক্যাল সায়েন্স), মাইনুল ইসলাম (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং) ও সাকিবুর রহমান (মেরিন ফিশারিজ)। মহিলাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হিসেবে নুসরাত হোসাইন আনিকা (মেরিন ফিশারিজ) এই পদক লাভ করেন। এই পাসিং আউট প্রক্রিয়ায় মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ৪৪তম ব্যাচের মোট ১১০ জন ক্যাডেট সফলভাবে কোর্স সম্পন্ন করে পাস আউট হয়েছেন, যার মধ্যে ১৭ জন নারী রয়েছেন।
পরে উপদেষ্টা পাসিং আউট প্যারেডের ৪৪তম ব্যাচের সার্টিফিকেট বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন এবং কোর্সে সফল ক্যাডেটদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেন।
পাসিং আউট প্যারেডে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর, মৎস্য অধিদপ্তর, তথ্য অধিদপ্তর, মেরিন ডিপার্টমেন্ট, শিপিং অফিস এবং বিভিন্ন মেরিটাইম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।