123 Main Street, New York, NY 10001

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ফাইনালে গুজরাট টাইটান্সকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টানা

দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের গৌরব অর্জন করেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।

গত রোববার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে ১২

বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় আরসিবি। এই জয়ের মাধ্যমে চেন্নাই সুপার কিংস ও

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের পর আইপিএলের ইতিহাসে মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে টানা দুই আসরে

চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য কীর্তি গড়ল তারা। বিরাটের দুর্দান্ত ব্যাটিং এবং বোলারদের

নিয়ন্ত্রিত নৈপুণ্যে ট্রফি ধরে রাখল বেঙ্গালুরু।

ম্যাচের শুরুতে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়ে স্বাগতিক

গুজরাট টাইটান্স। পাওয়ার প্লে-র মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক শুভমন গিল ও সাই

সুদর্শন। বেঙ্গালুরুর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে জস বাটলারও বড় কোনো ইনিংস

খেলতে পারেননি। একপর্যায়ে চরম সংকটে পড়া গুজরাটকে টেনে তোলেন ওয়াশিংটন সুন্দর, যার

লড়াকু ৫০ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে তারা লড়াই করার মতো পুঁজি পায়। শেষদিকে আরশাদ

খানের দ্রুতগতির ১৫ রানে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রান সংগ্রহ করে

গুজরাট। বেঙ্গালুরুর পক্ষে তরুণ পেসার রসিখ সালাম তিনটি এবং হ্যাজেলউড ও ভুবনেশ্বর

কুমার দুটি করে উইকেট নেন।

১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন বিরাট

কোহলি। উদ্বোধনী জুটিতে ভেঙ্কটেশ আইয়ারের ঝোড়ো ৩২ রান বেঙ্গালুরুকে দারুণ সূচনা এনে

দেয়। ইনিংসের মাঝপথে রশিদ খান জোড়া আঘাত হেনে গুজরাটকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করলেও

এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন কোহলি। ইনজুরির ধাক্কা সামলে ফিরে আসা এই ব্যাটিং তারকা

তুলে নেন তাঁর আইপিএল ক্যারিয়ারের অন্যতম দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি। রজত পাতিদার ও টিম

ডেভিড অল্প রানে বিদায় নিলেও কোহলির দৃঢ়তায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সব সময় বেঙ্গালুরুর

হাতেই ছিল।

বিরাট কোহলি শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে ৭৫ রান করে অপরাজিত থাকেন, যার ইনিংসে ৯টি চার ও

৩টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কার মার ছিল। তাঁর এই ক্লিনিক্যাল ফিনিশিংয়ের সুবাদে ১৮তম

ওভারেই ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে বেঙ্গালুরু। ১২ বল বাকি থাকতেই

জয় পাওয়ায় ম্যাচটি অনেকটা একপেশেভাবে শেষ হয়। আহমেদাবাদের গ্যালারি ভর্তি দর্শকদের

সামনে আরসিবির এই শিরোপা উদযাপন ছিল দেখার মতো। কোহলির এমন রাজকীয় প্রত্যাবর্তনে

উচ্ছ্বসিত ভক্ত ও ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।

এই শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে বেঙ্গালুরু প্রমাণ করল যে তারা এখন আইপিএলের অন্যতম

শক্তিশালী ফ্র্যাঞ্চাইজি। টানা দুই বছর চ্যাম্পিয়ন হওয়া যেকোনো দলের জন্যই বড়

চ্যালেঞ্জ, যা আরসিবি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করেছে। বিশেষ করে তরুণ ও অভিজ্ঞ

খেলোয়াড়দের সংমিশ্রণে গড়া তাদের ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই দাপট

দেখিয়েছে। আগামী মৌসুমেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে হ্যাটট্রিক শিরোপার লক্ষ্যে মাঠে

নামবে বেঙ্গালুরু, এমনটাই প্রত্যাশা ক্রিকেট প্রেমীদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *