123 Main Street, New York, NY 10001

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক অবিশ্বাস্য বোলিং কীর্তি গড়েছেন বতসোয়ানার

মিডিয়াম পেসার নাবিল মাস্টার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আফ্রিকার উপ-আঞ্চলিক

বাছাইপর্বে মালির বিপক্ষে মাত্র ২ রান খরচ করে ৬ উইকেট শিকার করে এই বিশ্ব রেকর্ড

গড়েছেন তিনি। ২০১৯ সালে অভিষেক হওয়ার পর দীর্ঘ সাত বছর জাতীয় দলের বাইরে ছিলেন এই

ক্রিকেটার। ক্রিকেটে ফেরার দ্বিতীয় ম্যাচেই এমন বিধ্বংসী পারফরম্যান্স দেখিয়ে বিশ্ব

ক্রিকেটকে চমকে দিলেন তিনি।

ম্যাচের শুরুর দিকে মালি ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়লে বতসোয়ানা দলের বোলিং আক্রমণের মূল

হাতিয়ার হয়ে ওঠেন মাস্টার। তিনি মাত্র ২.৪ ওভার বোলিং করার সুযোগ পান, যার মধ্যে

একটি ওভার ছিল মেইডেন। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ২ রান দিয়ে প্রতিপক্ষের ৬ জন

ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরত পাঠান। তাঁর বোলিং তোপে পড়ে মালির ইনিংস মাত্র ৯.৪ ওভারে ২৪

রানেই গুটিয়ে যায়। মাস্টারের করা ষষ্ঠ ওভারটি ছিল মেইডেন, এরপর অষ্টম ও দশম ওভারে

তিনি একের পর এক উইকেট শিকার করে মালির ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন।

মাস্টারের এই বোলিং ফিগার (২.৪-১-২-৬) পুরুষদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের

ইতিহাসে এখন পর্যন্ত হওয়া সেরা মিতব্যয়ী বোলিং হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এই অর্জনের

মাধ্যমে তিনি সিঙ্গাপুরের বোলার হার্ষা ভরদাজের আগের রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে ৪ ওভারে মাত্র ৩ রান খরচ করে ৬ উইকেট নিয়ে

রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছিলেন হার্ষা। এখন থেকে সেই তালিকায় শীর্ষে জায়গা করে

নিলেন বতসোয়ানার এই বোলার, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিরল এক সাফল্য।

ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে এটি ছিল নাবিল মাস্টারের জন্য প্রত্যাবর্তনের এক বিশাল গল্প।

২০১৯ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক অভিষেক হওয়ার পর তিনি মাত্র দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ

পেয়েছিলেন। দীর্ঘ এক বিরতির পর দুই দিন আগে তিনি পুনরায় জাতীয় দলে ডাক পান এবং

নিজের জাত চেনাতে সময় নিলেন না। বতসোয়ানার হয়ে প্রথম দুই ম্যাচে তিনি আহামরি কিছু

করতে না পারলেও সাত বছর পর দ্বিতীয় সুযোগেই নিজের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে

লিখিয়ে নিলেন।

মালির দেওয়া মাত্র ২৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে বতসোয়ানার খুব একটা বেগ পেতে হয়নি।

উদ্বোধনী দুই ব্যাটার মাত্র ২.২ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়েই প্রয়োজনীয় রান তুলে

নিয়ে ১০ উইকেটের বিশাল জয় নিশ্চিত করেন। নাবিল মাস্টারের এই বিধ্বংসী বোলিং কেবল

বতসোয়ানাকে এক সহজ জয় উপহার দেয়নি, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরিসংখ্যানেও এক নতুন

মানদণ্ড স্থাপন করেছে। মালির বিপক্ষে বতসোয়ানার এই একতরফা জয় এবং মাস্টারের রেকর্ড

দীর্ঘকাল ক্রিকেট প্রেমীদের মনে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *