123 Main Street, New York, NY 10001

জাপানের বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হোন্ডা ১৯৫৫ সালের পর অর্থাৎ দীর্ঘ

প্রায় ৭০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বার্ষিক ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির এই নজিরবিহীন আর্থিক বিপর্যয়ের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক

গাড়ি (ইভি) প্রকল্প থেকে আকস্মিকভাবে বড় পরিসরে সরে আসাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

হোন্ডা জানিয়েছে, গত মার্চে সমাপ্ত হওয়া অর্থবছরে তাদের আয় প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বা

১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ইয়েন হ্রাস পেয়েছে। সম্ভাব্য ৭ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার মুনাফার

লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোম্পানিটি ৪০৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ২

দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার নিট লোকসান গুনেছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতিগত পরিবর্তনই হোন্ডার এই

পরিস্থিতির পেছনে সবচেয়ে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের

পক্ষ থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ি ক্রয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ৭ হাজার ৫০০ ডলারের কর ছাড়

বাতিল এবং পরিবেশ সংক্রান্ত কঠোর নীতিমালা শিথিল করার ফলে দেশটিতে ইভির চাহিদা

ব্যাপকভাবে কমে যায়। এর আগে পরিবেশবান্ধব কঠোর আইন আসবে ধরে নিয়ে হোন্ডাসহ অন্যান্য

গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ইভি খাতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছিল। কিন্তু নীতির এই

আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে কোম্পানিগুলোকে তাদের পূর্বের বিনিয়োগের মূল্য কমিয়ে

দেখাতে হয়েছে, যা বড় ধরণের নিট ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে হোন্ডার পাশাপাশি জেনারেল মোটরস, ফোর্ড ও স্টেলান্টিসের মতো

প্রতিষ্ঠানগুলোও ইভি খাতে বড় অংকের লোকসানের কবলে পড়েছে। বর্তমানে ক্ষতি পুষিয়ে

নিতে অনেক কোম্পানি পুনরায় লাভজনক পেট্রোল চালিত ট্রাক ও এসইউভি বিক্রির দিকে নতুন

করে মনোযোগ দিচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি ইভি পরিকল্পনা

থেকে সরে আসেনি, কারণ ইউরোপ ও এশিয়ায় এখনো কঠোর পরিবেশ আইন কার্যকর হওয়ার পথে

রয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতাদের ক্রমবর্ধমান

প্রতিযোগিতা মোকাবিলা করাও বিশ্বখ্যাত এই প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ

হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *