123 Main Street, New York, NY 10001

চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে খুলনা বিভাগের চার জেলায় আমের আবাদে ব্যাপক সাফল্য দেখা

যাচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মোট ৭ হাজার ৭৫৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষ

করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় অন্তত ১৩ হেক্টর বেশি। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক

দুর্যোগ বা শিলাবৃষ্টির কবলে না পড়লে এ অঞ্চল থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ৭শ’ মেট্রিক টন

আম উৎপাদনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই উৎপাদিত আম বাজারজাত করে প্রায় ৫৬৩ কোটি ৫০

লাখ ১৫ হাজার টাকার বেশি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার, যেখানে আমের গড়

মূল্য প্রতি কেজি ৫০ টাকা ধরা হয়েছে। এছাড়া এ বছর দেশের চাহিদা মিটিয়ে অন্তত ১০০

মেট্রিক টন আম আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি

বিভাগ।

আমের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এবং অপরিপক্ক আম বাজারজাতকরণ রুখতে সাতক্ষীরা জেলা

প্রশাসন থেকে আম সংগ্রহের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচি বা ক্যালেন্ডার ঘোষণা করা

হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে গাছ থেকে আম সংগ্রহ ঠেকাতে কৃষি বিভাগ ও আইন-শৃঙ্খলা

রক্ষাকারী বাহিনী নিবিড় তদারকি চালাচ্ছে। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আজ ৫ মে থেকে

আনুষ্ঠানিকভাবে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই ও গোলাপখাসসহ স্থানীয় বিভিন্ন বৈশাখী

জাতের আম সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। জনপ্রিয় হিমসাগর আম পাড়া শুরু হবে আগামী ১৫ মে

থেকে। এছাড়া ল্যাংড়া আম ২৭ মে এবং আম্রপালি ৫ জুন থেকে বাজারজাত করার অনুমতি দেওয়া

হয়েছে।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সাতক্ষীরা জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে ৭০

হাজার ৯৬৫ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩৫৪

কোটি ৮২ লাখ টাকা। নড়াইল জেলায় ৫৪২ হেক্টর জমিতে ৭ হাজার ৬০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের

মাধ্যমে ৩৫ কোটি ৩০ লাখ টাকার ব্যবসার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের

মতে, প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকলে এই অঞ্চলের আম চাষিরা দেশের পুষ্টির চাহিদা

পূরণের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও বিশেষ অবদান রাখবেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম

জানান, খুলনাঞ্চলে চলতি অর্থবছরে ৭৭৫৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষাবাদ করা হয়েছে। অঞ্চলে

আমের সম্ভাব্য উৎপাদন ধরা হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৭শ’ মেট্রিক টন। বিপরীতে বিক্রির

টার্গেট রয়েছে ৫৬৩ কোটি টাকার উপরে। বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষ করে

শিলা বৃষ্টি না হলে এই অঞ্চলে উৎপাদিত আম দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণের

পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধিকরণসহ রেমিট্যান্স অর্জণেও

গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *