123 Main Street, New York, NY 10001

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান চরম উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ঘোষিত সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এই বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যেখানে তেহরান তার ইতিবাচক মনোভাবের কথা প্রকাশ করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগটি মূলত ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান বৃহত্তর শান্তি প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা অঞ্চলটিতে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক বিবৃতিতে জানান, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষ বন্ধের this ঘোষণা ইরানের জন্য অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে, সেটি লেবাননের এই ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি বৃহত্তর শান্তি উদ্যোগের অঙ্গ। তেহরান মনে করে, এসব পদক্ষেপ অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে এবং সাধারণ মানুষের প্রাণহানি কমাতে সাহায্য করবে।

এই যুদ্ধবিরতিতে সরাসরি ভূমিকা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ এর মাধ্যমে জানিয়েছেন, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, এ বৈঠকের ফলস্বরূপ দুই নেতা ১০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন, যাতে সীমান্তে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা সম্ভব হয়েছে।

তবে, শান্তির এই বার্তার মাত্র ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই মাঠ পর্যায়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। লেবাননের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠে যে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কিছু সময়ের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী আবারও সমঝোতার শর্ত ভঙ্গ করে হামলা চালিয়েছে। যদিও লেবানিজরা দীর্ঘদিনের সংঘাতের ভীতি কাটিয়ে নিজ নিজ ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন, তাঁদের কিছু অসুবিধা এবং আতঙ্ক এখনো বিদ্যমান। যদি এই রিপোর্ট সত্য হয়, তবে ১০ দিনের শান্তি প্রক্রিয়া ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।

উল্লেখ্য, এই মধ্যপ্রাচ্যের বহুমুখী যুদ্ধের সূচনা আজ থেকে ৪০ দিন আগে, ২৮ ফেব্রুয়ারি, যা বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এই সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সরাসরি আলোচনায় বসেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা। যদিও সেই দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার বৈঠক কোনো চূড়ান্ত সমাধান এনে দেয়নি, তবে এই সাময়িক বিরতিকে সেই আলোচনার একটি উল্লেখযোগ্য ফল বলে মনে করা হচ্ছে। এখন বিশ্বের দৃষ্টি केंद्र হচ্ছে এই লেবানন যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্বের উপরে, কারণ এটি নির্ধারিত করবে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগামী দ্বিতীয় দফার আলোচনার ভবিষ্যত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *