বাংলাদেশের করপোরেট ক্রিকেটের দিগন্তে আরেকটি নতুন যুগের সূচনা হলো। বুধবার, ১৫ এপ্রিল, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ক্যাফে লিও-তে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘ফ্রস্ট ব্লাস্ট দ্য হান্ড্রেড ২০২৬’ টুর্নামেন্টের অফিসিয়াল ট্রফি উন্মোচন হয়। সেই সাথে অনুষ্ঠিত হয় ‘ক্যাপ্টেনস মিট’ সভা, যেখানে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অপেশাদার করপোরেট ক্রিকেট ক্লাব ঢাকা মেভেরিকসের আয়োজনে এই অঙ্গনে এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক স্থাপন করলো। এই টুর্নামেন্টটি ১০০ বলের ক্রিকেট ফরম্যাটকে জনপ্রিয় করে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।শ্রীলংকারি ক্রিকেটের মতো আধুনিক ও উদ্ভাবনী এই সংস্করণটি দেশব্যাপী ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি আলেকজান্দ্রা এ. হেলভনয়, যিনি ট্রফি উন্মোচনের সময় উদ্যোক্তাদের এই সৃজনশীল উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, ক্রিকেটের এই নতুন ধারা বাংলাদেশে আরও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাবে এবং খেলোয়াড় ও দর্শকদের জন্য এটি এক অনন্য অভিজ্ঞতা হবে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ, যার সার্বিক সহযোগিতায় এই টুর্নামেন্ট বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর পাশাপাশি সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবাল (এসবিজি) কো-স্পন্সর হিসেবে যুক্ত হয়েছে, যারা খেলোয়াড়দের জন্য বিভিন্ন পুরস্কার ও উপহার নিয়ে থাকছে। দেশের অন্যতম স্পোর্টস চ্যানেল টি-স্পোর্টস এবং দৈনিক ‘দৈনিক বাংলা’ মিডিয়া পার্টনার হিসেবে কাজ করছে, যা দর্শকদের কাছে এই টুর্নামেন্টের প্রতিটি মুহুর্ত সরাসরি পৌঁছে দেবে। এছাড়াও, জুলকান গিফট পার্টনার হিসেবে বিভিন্ন পুরস্কার দান করছে। মূল টুর্নামেন্টটি আইসিসি-র মানদণ্ডে সাজানো হয়েছে। প্রতিটি ম্যাচ হবে ১০০ বলের, যেখানে সাদা ও রঙিন পোশাক পরা হবে। আধুনিক ক্রিকেটের সব সুবিধা নিশ্চিত করতে ফ্লাডলাইটে অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচ, ডিএলএস পদ্ধতি ব্যবহৃত হবে, এছাড়া থাকছে ৯০ সেকেন্ডের ‘স্ট্র্যাটেজিক টাইমআউট’। প্রতিটি দলের জন্য ১৫ সদস্যের স্কোয়াড, উন্নতমানের ক্রিকেট কিট, লাইভ সম্প্রচার, এবং প্রতিযোগিতার জন্য ১ লক্ষ টাকা চ্যাম্পিয়ন দলকে ও ৫০ হাজার টাকা রানার্স-আপকে পুরস্কার দেওয়া হবে। খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের জন্য থাকছে বিশেষ সম্মাননাও। এই মহাযজ্ঞের সফলতা জন্য ঢাকার মেভেরিকসের একটি দক্ষ কার্যনির্বাহী কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। টুর্নামেন্টের আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সালাহউদ্দিন ইসলাম, এবং পরিচালনায় রয়েছেন মো. তৌহিদ বিন শাফি। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন মাঈন ইসলাম, নাজমুল করিম দীপ (অর্থ বিভাগের প্রধান), জহিরুল ইসলাম (প্রশাসন প্রধান), মুহাইমিনুল ইসলাম নিপু (মার্কেটিং প্রধান), হারুন (আইনি বিষয়ের প্রধান), অবসরপ্রাপ্ত লে. কমান্ডার মারুফ হোসাইন (পিআর প্রধান), ও শোয়েব (কমপ্লায়েন্স প্রধান)। আগামী দিনগুলোতে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে মূল লড়াই শুরু হবে। এই ভেন্যুটি আধুনিক সুবিধা ও মনোরম পরিবেশে সাজানো, যেখানে করপোরেট পেশাজীবীরা এক সঙ্গে মিলিত হবেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মার্চে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ঢাকা মেভেরিকস বাংলাদেশের পেশাজীবীদের মধ্যে ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা এবং দলগত সংহতি বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে। আয়োজকরা আশাবাদী, এই টুর্নামেন্ট শুধুমাত্র একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং বাংলাদেশের করপোরেট সংস্কৃতির এক নতুন উৎসবে পরিণত হবে। ক্রিকেটপ্রেমীদের সকলকে মাঠে এসে এই নতুন ফরম্যাটের ক্রিকেট উপভোগ করার জন্য সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।