123 Main Street, New York, NY 10001

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের বড় স্বপ্নের অংশ একটি বড় ধাক্কা। আসন্ন চতুর্থ ইয়ুথ সামার অলিম্পিক গেমস থেকে শুটিং এবং আরচ্যারির মতো গুরুত্বপূর্ণ ডিসিপ্লিনগুলো বাদ পড়েছে, যার ফলে বাংলাদেশিপ্রতিনিধিরা এই বড় মঞ্চে অংশ নেওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই আসরটি অনুষ্ঠিত হবে ৩১ অক্টোবর থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত সেনেগালের রাজধানী ডাকারে, এবং সেখানে বাংলাদেশের জন্য বড় দুঃসংবাদ হলো—অর্থাৎ, এই দুই খেলাতে কোটা না পাওয়া। বেশিরভাগ আশা ছিল এই ডিসিপ্লিনগুলোর মাধ্যমে পদক জয়ের, কিন্তু এখন সেটি খুবই দুরাশা হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) সূত্রে জানা গেছে, আরচ্যারিকে সবচেয়ে সম্ভাবনা পূর্ণ খেলাগুলোর অন্যতম হিসেবে ধরা হচ্ছিল। এই ডিসিপ্লিনে অংশগ্রহণের জন্য আইওসির কাছে ব্যাপক চেষ্টা চালানো হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা সম্মত হননি। বিওএ-এর সহ-সভাপতি মেজর ইমরোজ আহমেদ হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম এই ডিসিপ্লিনগুলো থেকে বাংলাদেশের সম্ভাবনা থাকবে, তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্য তিনটি খেলাকে গুরুত্ব দিয়ে আসরে অংশ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ ফলে, পদক জেতার সম্ভাবনাও একদমই কমে গেছে।

অন্যদিকে, আরচ্যারির সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ এই ব্যর্থতার পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, এই আসরটি আফ্রিকার সেনেগালে হওয়ার কারণে আইওসি অনেক ক্ষেত্রেই আফ্রিকার দেশগুলোকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এছাড়াও, গত বছর কানাডায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব যুব আরচ্যারী টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের ফলাফল সন্তোষজনক ছিল না, এবং আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকার জন্য বাংলাদেশের আরচ্যারি সম্ভাবনাও কমে গেছে। অন্তত, এবার ডাকারে যাওয়ার জন্য সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

শুটিংয়ের পরিস্থিতি আরও দুঃখজনক। কমনওয়েলথ গেমসের মতো আসর থেকে শুটিং বাদ পড়া উদ্বেগজনক ব্যাপার, কারণ এটি বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য স্বাভাবিকভাবে বড় ক্ষতি। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের ইয়ুথ অলিম্পিকেও বাংলাদেশি শুটাররা সরাসরি অংশ নিয়েছিল, কিন্তু এবার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। এই দুই ডিসিপ্লিনের অনুপস্থিতি ক্রীড়া মহলে প্রশ্ন তুলছে, দেশের ক্রীড়া কূটনীতির পাশাপাশি তদারকি ও প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে কিনা।

তবে, সব ব্যর্থতার মাঝেও, বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি অল্প কিছু ডিসিপ্লিনে সার্বিকভাবে ‘ওয়াইল্ড কার্ড’ দিয়েছে। এসব ডিসিপ্লিনে আঞ্চলিক পর্যায়ের সাধারণ বাছাইয়ে বাধা থাকলেও বাংলাদেশ এই সুযোগে সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স ও বক্সিংয়ে অংশগ্রহণ করবে। এই সুযোগ ব্যবহার করে বাংলাদেশি খেলোয়াড়রা আবারও আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের পরিচিতি বাড়ানোর চেষ্টা করবে। উল্লেখ্য, সাধারণত বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা এই ওয়াইল্ড কার্ডের মাধ্যমে অলিম্পিকে অংশ নেয়। এর আগে ২০১৬ সালে সিদ্দিকুর রহমান ও রোমান সানা, সাগর ইসলাম সরাসরি কোয়ালিফাই করে নতুন ইতিহাস রচনা করেছিলেন।

অতীতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৪ সালের নানজিং ইয়ুথ অলিম্পিকতে বাংলাদেশ পাঁচটি ডিসিপ্লিনে অংশ নিয়েছিল এবং ২০১৮ সালের বুয়েন্স আয়ার্সেও বিভিন্ন ইভেন্টে প্রতিনিধিত্ব ছিল। তবে এবার ডিসিপ্লিনের সংখ্যা ও মানদণ্ডে বাংলাদেশ কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। বিওএ বর্তমানে এই তিন ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়দের নিবিড় প্রস্তুতিতে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করে, যাতে বিশ্বমঞ্চে সম্মানজনক ফলাফল অর্জন সম্ভব হয়। তবে, আরচ্যারির অভাব ও শুটিংয়ের অনুপস্থিতি দেশের ক্রীড়া ভক্তদের দীর্ঘকাল অপূর্ণতার ক্ষত রেখে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *