123 Main Street, New York, NY 10001

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চলতি আসরে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে তিনবারের

চ্যাম্পিয়ন কলকাতা নাইট রাইডার্স। আসরের শুরু থেকে টানা পাঁচটি ম্যাচ খেলে ফেললেও

এখনো জয়ের দেখা পায়নি আজিঙ্কা রাহানের নেতৃত্বাধীন দলটি। মাঠের লড়াইয়ে একের পর এক

পরাজয়ে পর্যুদস্ত কলকাতা যখন খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে, ঠিক তখনই দলটির কৌশলগত ‘বড় ভুল’

নিয়ে সরব হয়েছেন ভারতের সাবেক কিংবদন্তি ক্রিকেটার বীরেন্দর শেবাগ। তাঁর মতে,

আইপিএল ইতিহাসের অন্যতম রেকর্ড মূল্যে অজি অলরাউন্ডার ক্যামেরুন গ্রিনকে দলে

ভেড়ানোই কলকাতার জন্য এখন ‘বোঝা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত নিলামে ২৫ কোটি ২০ লাখ রুপির রেকর্ড মূল্যে ক্যামেরুন গ্রিনকে কিনে ক্রিকেট

বিশ্বে হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল কলকাতা। আইপিএলের ইতিহাসে অন্যতম ব্যয়বহুল এই বিদেশি

খেলোয়াড়কে ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। তবে মাঠের বাস্তব চিত্র

বর্তমানে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন পর্যন্ত পাঁচটি ম্যাচে অংশ নিয়ে গ্রিনের ব্যাট থেকে

এসেছে মাত্র ৫৬ রান, আর বল হাতে শিকার করেছেন মাত্র একটি উইকেট। পিঠের চোটের কারণে

প্রথম তিনটি ম্যাচে তিনি বোলিংই করতে পারেননি। সর্বশেষ চেন্নাই সুপার কিংসের

বিপক্ষে ৩২ রানে হারার ম্যাচেও গ্রিন ছিলেন চূড়ান্ত ব্যর্থ। ২ ওভার বোলিং করে ৩০

রান দেওয়ার পর ব্যাট হাতে তিনি ফিরেছেন কোনো রান না করেই।

ক্রিকেট বিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেবাগ কলকাতার এই

ব্যয়বহুল বিনিয়োগকে সরাসরি প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, যখন

হাতে পর্যাপ্ত অর্থ থাকে তখন গ্রিনের মতো একজন খেলোয়াড়ের পেছনে এমন বিপুল অর্থ খরচ

করা মূলত একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। শেবাগের মতে, প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স না

থাকায় গ্রিন এখন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির জন্য একটি ‘দায়’ বা লায়াবিলিটি হয়ে উঠেছেন। তাঁকে

একাদশে রাখলে তিনি পারফর্ম করতে পারছেন না, আর বাইরে রাখলে প্রশ্ন উঠছে কেন তাঁর

পেছনে এত টাকা ব্যয় করা হলো। শেবাগ মনে করেন, এই ব্যর্থতা স্বীকার করার মাঝে কোনো

লজ্জা নেই এবং কলকাতার ম্যানেজমেন্টের উচিত দ্রুত তাঁদের এই ভুলটি অনুধাবন করা।

পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে কলকাতাকে আমূল পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন এই

সাবেক ওপেনার। শেবাগ মনে করেন, গ্রিনকে আপাতত সাইডবেঞ্চে বসিয়ে নিউজিল্যান্ডের

বিধ্বংসী ব্যাটার টিম সেইফার্টকে একাদশে সুযোগ দেওয়া উচিত। সম্প্রতি কিউইদের হয়ে

দারুণ ছন্দে থাকা সেইফার্ট ব্যাটিংয়ের শক্তি বাড়াতে পারবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এছাড়া ব্যাটিং অর্ডারেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে শেবাগ বলেন, দলের দুই ওপেনারকে শুরু

থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে দেওয়া প্রয়োজন। তিনি প্রস্তাব করেছেন যে অধিনায়ক

আজিঙ্কা রাহানেকে তিন নম্বর পজিশনে এবং রভম্যান পাওয়েলকে চার নম্বরে খেলানো হোক।

একই সাথে তরুণ আংক্রিশ রাঘুবংশীকে ব্যাটিং অর্ডারে কিছুটা নিচে নামিয়ে দলের

ভারসাম্য রক্ষা করার কথা বলেছেন তিনি।

টানা পরাজয়ের ফলে কলকাতার জন্য এবারের প্লে-অফে ওঠার পথ এখন বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

সমর্থকদের তীব্র ক্ষোভ আর মাঠের ক্রমাগত ব্যর্থতার চাপে দিশেহারা ম্যানেজমেন্ট এখন

বীরেন্দর শেবাগের এই কারিগরি পরামর্শগুলো আমলে নিয়ে নতুন কোনো পরিকল্পনা সাজায় কি

না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। নতুবা আইপিএলের এই আসরটি কলকাতার জন্য একটি বড় ধরণের

বাণিজ্যিক ও কৌশলগত বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে

টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায় দিন গুনছে নাইট রাইডার্স ভক্তরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *