123 Main Street, New York, NY 10001

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তামাকের কর ও মূল্যবিধানে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সুপারিশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, সিগারেটের মূল্যস্তর বর্তমান চারটি স্তরের পরিবর্তে তিনটি স্তরে নামিয়ে আনা, এবং প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব বাড়বে, যার মাধ্যমে মোট রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৮৫ হাজার কোটি টাকায়। এটি আগামী বাজেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে।

সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিএমএ ভবনে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা) যৌথভাবে ‘তামাক কর ও মূল্য পদক্ষেপ: বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক এক কর্মশালা আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। কর্মশালায় প্রস্তাবিত কর কাঠামো ও মূল্যস্ফীতির মাধ্যমে তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে তামাক ব্যবহারে হ্রাস, অকাল মৃত্যু কমানো এবং রাজস্ব প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা আলোচনা করা হয়।

উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে সিগারেটের ব্যবহারকারীদের বেশিরভাগই দরিদ্র ও শ্রমজীবী মানুষ, যারা নিম্ন ও মধ্যম স্তরের পণ্য ব্যবহার করে। এই শ্রেণিগুলোর মূল্য বৃদ্ধি করলে ধূমপান করা কম হবে এবং নতুন করে ধূমপান শুরু করার প্রবণতা কমবে। একইসঙ্গে, সুনির্দিষ্ট কর নেওয়া হলে কর ব্যবস্থা সহজ হবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমও উন্নত হবে।

প্রস্তাবনা অনুযায়ী, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের মধ্যে প্রতি ১০ শলাকার সিগারেটের খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ করা যেতে পারে। উচ্চ স্তরে এটি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরে ১৮৫ থেকে ২০০ বা তার বেশি নির্ধারিত হবে। পাশাপাশি, খুচরা মূল্যের ওপর ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্র্যান্ডের ভিত্তিতে বিড়ি, জর্দা ও গুলের ওপর সুনির্দিষ্ট হারে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। সব তামাক পণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ধরে রাখার পরিকল্পনাও শোনা যাচ্ছে।

এটি বাস্তবায়িত হলে, পরবর্তী অর্থবছরে তামাক থেকে রাজস্ব আয় ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি হতে পারে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি। পাশাপাশি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান বন্ধ করতে উৎসাহিত হবে, এবং তিন লাখ বাষট্টি হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু থেকে বিরত থাকবে। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হয়ে উঠবে এক লক্ষ পঁচাশি হাজার তরুণসহ মোট তিন লাখ সত্তর হাজারের বেশি মানুষের অকাল মৃত্যু রোধ করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *