123 Main Street, New York, NY 10001

বিশ্ব টেনিসের বর্তমান সময়ের দুই মহাতারকার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত দাপুটে জয় তুলে

নিয়েছেন ইতালিয়ান সেনসেশন ইয়ানিক সিনার। গত রাতে মন্টে কার্লো মাস্টার্সের

হাইভোল্টেজ ফাইনালে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ও বিশ্বের এক নম্বর তারকা কার্লোস

আলকারাজকে সরাসরি সেটে পরাজিত করে শিরোপা জয় করেছেন তিনি। এই অভাবনীয় জয়ের ফলে গত

বছরের নভেম্বরের পর আবারও এটিপি র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান নিজের দখলে নিলেন ২৪ বছর

বয়সী এই তারকা। একই সাথে আলকারাজের দীর্ঘদিনের আধিপত্য চুরমার করে দিয়ে নিজেকে নতুন

করে বিশ্বসেরার আসনে প্রতিষ্ঠিত করলেন তিনি।

মন্টে কার্লোর রোমাঞ্চকর এই ফাইনালে দুই খেলোয়াড়কেই প্রতিকূল আবহাওয়ার মোকাবিলা

করতে হয়েছে। প্রবল বাতাসের কারণে খেলার শুরুতে ছন্দ খুঁজে পেতে উভয়ই কিছুটা সংগ্রাম

করলেও স্নায়ুচাপ সামলে নিয়ে ধীরে ধীরে আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করেন সিনার। প্রথম

সেটে লড়াই সমানে সমান চললেও টাইব্রেকারে নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়ে ৭-৬ (৭-৫) গেমে

জয়ী হন তিনি। দ্বিতীয় সেটের শুরুতে আলকারাজ ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে প্রত্যাবর্তনের

জোরালো ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কিন্তু সিনারের অদম্য জেদের সামনে শেষ পর্যন্ত খেই হারিয়ে

ফেলেন ২২ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ তারকা। শেষ পর্যন্ত ৬-৩ গেমে সেট ও ম্যাচ জিতে

শিরোপা নিশ্চিত করেন সিনার।

চলতি ২০২৬ সালে এটি ইয়ানিক সিনারের তৃতীয় মাস্টার্স ১০০০ শিরোপা। এর আগে তিনি

ইন্ডিয়ান ওয়েলস এবং মিয়ামি ওপেনেও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিলেন। মাস্টার্স

ইভেন্টগুলোতে এটি তাঁর টানা ২২তম জয়, যা বর্তমান টেনিস বিশ্বে তাঁর একচ্ছত্র

প্রভাবের প্রমাণ দেয়। ট্রফি জয়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় সিনার জানান, ক্লে-কোর্টে

মানিয়ে নেওয়াটা তাঁর জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে সব বাধা পেরিয়ে আবারও এক

নম্বর হওয়া এবং বড় এই টুর্নামেন্টে জয় পাওয়াটা তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য অত্যন্ত বিশেষ

কিছু। এই জয়ের ফলে আলকারাজের বিপক্ষে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানেও ব্যবধান কমিয়ে

আনলেন তিনি।

একই দিনে নারী টেনিস অঙ্গনেও এক নতুন নক্ষত্রের উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। অস্ট্রিয়ার

লিঞ্জ ওপেনের ফাইনালে ১৮ বছর বয়সী রুশ বিস্ময় বালিকা মিরা আন্দ্রেভা সবাইকে অবাক

করে দিয়ে শিরোপা জয় করেছেন। ফেভারিট আনাস্তাসিয়া পোতাপোভার বিপক্ষে প্রথম সেটে ১-৬

গেমে পিছিয়ে পড়েও দমে যাননি তিনি। দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে পরবর্তী সেটগুলোতে

৬-৪ ও ৬-৩ গেমে জয় নিশ্চিত করেন এই তরুণী। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের পঞ্চম ডব্লিউটিএ

শিরোপা, যা বিশ্ব টেনিসে তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের বার্তাই দিচ্ছে। সব মিলিয়ে টেনিস

বিশ্বের জন্য এই দিনটি ছিল সেরাদের লড়াই আর নতুনদের জয়গানের এক অনন্য মুহূর্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *