123 Main Street, New York, NY 10001

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইতিহাসের প্রথম মার্কিন বংশোদ্ভূত পোপ লিও চতুর্দশের মধ্যে এক অনন্য ও নাটকীয় বিবাদ শুরু হয়েছে। এই দ্বন্দ্বটি মূলত ইরান যুদ্ধ এবং মার্কিন বিদেশনীতি নিয়ে পোপের সমালোচনাকে কেন্দ্র করে। ট্রাম্প পোপকে আক্রমণ করে তাকে ‘উগ্র বামপন্থীদের অনুসারী’ এবং ‘অযোগ্য’ বলে সম্বোধন করেছেন। অন্যদিকে, পোপ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে ভয় পান না এবং শান্তির বার্তা প্রচার নিজের ধর্মীয় দায়িত্ব মনে করেন।

সোমবার আলজেরিয়ায় সফরের পথে বিমানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পোপ লিও চতুর্দশ বলেন, ভ্যাটিকানের শান্তির আহ্বান মূলত বাইবেলের সুসমাচার বা ‘গসপেল’-এর উপর ভিত্তি করে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘প্রেসিডেন্ট যা করতে চান বা আমার বার্তাকে একই রকমভাবে মূল্যায়ন করা ভুল হবে। কারণ, সুসমাচারের মূল বার্তা খুব সহজ ও স্পষ্ট—‘শান্তি স্থাপনকারীরা ধন্য।’’ তীব্র সমালোচনাকে উপেক্ষা করে পোপ বলেন, তার মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তির সেতু তৈরি করা, যা তার ধর্মীয় দায়িত্ব।

গত রোববারের রাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প অনলাইনে একের পর এক আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। তিনি পোপকে ‘অত্যন্ত উদারপন্থী’ এবং ‘দুর্বল’ বলে আখ্যা দেন। ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ‘আমি পোপ লিওর ভক্ত নই। তিনি অপরাধের বিষয়ে নমনীয় ও পররাষ্ট্রনীতিতে ভয়াবহ।’ তিনি আরও বলেন, পোপ কেবল মার্কিন বংশোদ্ভূত হওয়ার জন্য এই পদ পেয়েছেন, এবং তিনি ‘র‍্যাডিক্যাল লেফট’ বা চরম বামপন্থীদের পক্ষে বলে প্রচার করেন।

এই তীব্র অভিযোগের মূল কারণ হলো, পোপের সাম্প্রতিক মন্তব্য যেখানে তিনি বলেছিলেন যে ইরান যুদ্ধের পেছনে ‘সর্বশক্তিমান হওয়ার বিভ্রম’ কাজ করছে। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এমন একজন পোপ চাই না যারা মনে করেন যে ইরানের পারমানবিক অস্ত্র থাকা ঠিক।’

বিবাদের মাঝেই ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিতর্কিত ছবি পোস্ট করেন। যেখানে তাকে যিশু খ্রিস্টের মতো অলৌকিক ক্ষমতার ভেবে দেখানো হয়েছে; ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্পের আঙুল থেকে আলো বেরোচ্ছে এবং তিনি একজন অসুস্থ ব্যক্তির হাতে হাত রেখে তাকে সুস্থ করছেন। এই ছবি এবং ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাবকে ‘ঈশ্বরের কাজ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা মার্কিন ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

ইউএস কনফারেন্স অব ক্যাথলিক বিশপস-এর প্রেসিডেন্ট আর্চবিশপ পল এস কোকলি গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘পোপ কোন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী নন; তিনি খ্রিস্টের প্রতিনিধি, যে সত্য ও শান্তির বার্তা পৌঁছে দেন।’

অপর দিকে, সিআইএ-র সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান ট্রাম্পকে ‘মানসিকভাবে অপ্রকৃতিস্থ’ বলে আখ্যা দিয়ে তাকে অপসারণের দাবিও তুলেছেন। তিনি মনে করেন, ট্রাম্পের হাতে পরমাণু অস্ত্রের বণ্টন এবং নিয়ন্ত্রণ বিশ্ববাসীর জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। ২৫তম সংশোধনী কার্যকর করার জন্য ইতোমধ্যে ৭০ জনের বেশী ডেমোক্র্যাট সদস্য আহ্বান জানিয়েছেন।

ইরান ও আমেরিকা মধ্যে পাকিস্তানে চলা শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক মনোভাব বিশ্ব রাজনীতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে। একদিকে পোপের শান্তির আহ্বান, অন্যদিকে ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী অবস্থান—এ সমস্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে ওয়াশিংটন ও ভ্যাটিকানের মধ্যে এক ঐতিহাসিক স্নায়ুযুদ্ধ। বিশ্লেষকদের মতে, একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরাসরি পোপকে আক্রমণ করার ঘটনা আধুনিক ইতিহাসে খুবই বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *