মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমিয়ে কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত ও ভোক্তাদের সাশ্রয়ী
দামে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে সিলেটে প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায়
‘কৃষকের হাট’ চালু হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে উৎপাদক ও ক্রেতার মধ্যে সরাসরি সংযোগ
তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে নগরীর টিলাগড় পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে
বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এর আনুষ্ঠানিক
উদ্বোধন করেন।
সিলেট জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে ‘সরাসরি কৃষকের কাছ
থেকে নিরাপদ ও তাজা পণ্য’ স্লোগানে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে প্রান্তিক কৃষকরা কোনো
মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করতে
পারবেন। এ তথ্য জানানো হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য আনতে
সরকার বিভিন্ন নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে কৃষিপণ্য উৎপাদক থেকে
ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়, যার ফলে অযৌক্তিকভাবে দাম বেড়ে
যায়। ‘কৃষকের হাট’ এই মধ্যবর্তী স্তর কমিয়ে কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্যই একটি
‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করবে।
তিনি বলেন, ‘কৃষক-ভোক্তার সরাসরি সংযোগে বাজারে স্বস্তি আসবে এবং মূল্য স্থিতিশীল
রাখতে সহায়তা করবে।’
মন্ত্রী জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত স্থানে সপ্তাহে
নির্দিষ্ট দিনে এই হাট বসবে, যেখানে কৃষকরা সরাসরি পণ্য বিক্রি করবেন। প্রশাসনের
নজরদারির কারণে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অপ্রত্যাশিত খরচের সুযোগ থাকবে না বলেও
উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া
হয়েছে। আমদানি থেকে খুচরা বিক্রি পর্যন্ত পুরো সাপ্লাই চেইনকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল
কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে বাজার তদারকি সহজ হয় এবং কারসাজি দ্রুত
শনাক্ত করা যায়।
এছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে ভারসাম্য রাখতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব
বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম আরও জোরদার করার কথাও জানান তিনি। টিসিবির মাধ্যমে
বেশি পরিমাণে পণ্য আমদানি করে বাজারে একটি কার্যকর ‘কাউন্টার ব্যালান্স’ তৈরি করা
হবে।
কৃষি খাতে উৎপাদন বাড়াতে সেচ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং খাল পুনঃখননের ওপর
গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে বাজার আরও স্থিতিশীল
হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার খান
মো. রেজা-উন-নবীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত
ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিন সকালে নির্ধারিত স্থানে এই হাট পরিচালিত হবে।
উদ্যোগটি সফল হলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং সাধারণ মানুষ তুলনামূলক কম দামে
নিরাপদ ও তাজা পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন, যা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা
হচ্ছে।