123 Main Street, New York, NY 10001

লন্ডনভিত্তিক প্রখ্যাত ব্রিটিশ নির্মাতা গাই রিচি ২০১১ সালে রবার্ট ডাউনি জুনিয়রকে

নিয়ে ‘শার্লক হোমস’ নির্মাণ করে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। বড় পর্দার সেই

সাফল্যের রেশ ধরে দীর্ঘ বিরতির পর তিনি আবারও ফিরলেন এই কিংবদন্তি গোয়েন্দার গল্প

নিয়ে। তবে এবার প্রেক্ষাপট বড় পর্দা নয়, বরং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম। গত মাসে অ্যামাজন

প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পেয়েছে তাঁর পরিচালিত ৮ পর্বের সিরিজ ‘ইয়ং শার্লক’।

কিংবদন্তি গোয়েন্দা হয়ে ওঠার আগের এক ১৯ বছর বয়সী শার্লককে নিয়ে নির্মিত এই সিরিজটি

নিয়ে শুরু থেকেই রহস্যপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল থাকলেও, মুক্তির পর এটি মিশ্র

প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হচ্ছে।

সিরিজটির গল্প আবর্তিত হয়েছে শার্লকের তরুণ বয়সের এক অস্থির সময়কে কেন্দ্র করে।

এখানে শার্লক কোনো ঝানু গোয়েন্দা নন, বরং এক বখাটে পকেটমার তরুণ। তাঁর বিশৃঙ্খল

জীবনে শৃঙ্খলা ফেরাতে এগিয়ে আসেন বড় ভাই মাইক্রফট হোমস। জেল থেকে ছাড়িয়ে তিনি

শার্লককে অক্সফোর্ডে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন, তবে ছাত্র হিসেবে নয়, বরং একজন

পোর্টারের সহকারী হিসেবে। এই মানসিক ও সামাজিক পরিবর্তনের পর্বেই শার্লক জড়িয়ে পড়েন

এক গভীর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে। প্রিন্সেস গুলুন শোআনের নিয়ে আসা একটি অত্যন্ত

মূল্যবান চীনা স্ক্রল চুরি হওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয় খুন, বিস্ফোরণ আর ক্ষমতার

লড়াই। এই তদন্তের মাধ্যমেই মূলত শার্লকের অসাধারণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার প্রথম প্রকাশ

ঘটতে শুরু করে।

‘ইয়ং শার্লক’-এর অন্যতম বড় চমক হলো জেমস মরিয়ার্টি ও শার্লক হোমসের সম্পর্কের

ভিন্নধর্মী উপস্থাপন। চিরাচরিত শত্রুর পরিবর্তে এখানে তাঁদের সম্পর্ক শুরু হয় নিবিড়

বন্ধুত্বের মধ্য দিয়ে। ডোনাল ফিন অভিনীত মরিয়ার্টি চরিত্রটি সিরিজে আলাদা প্রাণ

সঞ্চার করেছে এবং ভবিষ্যতের চরম বৈরিতার বীজটি যে এই বন্ধুত্বেই লুকানো ছিল, তা

অত্যন্ত মুন্সিয়ানার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন পরিচালক। এছাড়া হিরো ফিনিস টিফিন তরুণ

শার্লক হিসেবে তাঁর পারিবারিক ট্র্যাজেডি ও মানসিক দ্বৈরথগুলো তুলে ধরার চেষ্টা

করেছেন, যদিও সমালোচকদের মতে তাঁর অভিনয় অনেক ক্ষেত্রে নিজস্বতা হারিয়ে কেবল

অনুকরণের পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থেকেছে।

কারিগরি দিক থেকে গাই রিচি তাঁর চিরাচরিত শৈলী বজায় রেখেছেন। স্টাইলিশ ভিজ্যুয়াল,

ফাস্ট কাট এডিটিং এবং ভিক্টোরিয়ান যুগের নিখুঁত চিত্রায়ন সিরিজটিকে আধুনিক দর্শকের

কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। সেট ডিজাইন, পোশাক এবং আবহসংগীতে কোনো কার্পণ্য করা

হয়নি, যা দর্শকদের সহজেই সেই ঐতিহাসিক সময়ে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। তবে গল্পের দিক থেকে

কিছু দুর্বলতা চোখে পড়ার মতো। আটটি পর্বের এই সিরিজে একসঙ্গে অনেকগুলো উপ-গল্প বা

সাবপ্লট যোগ করার ফলে কোনোটিই শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ গভীরতা পায়নি।

সিরিজটির সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে শার্লক হোমসের মৌলিক চারিত্রিক

বৈশিষ্ট্যের অভাব। স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের সেই তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন শার্লকের

পরিবর্তে এখানে তাকে একজন সাধারণ অ্যাকশন হিরো হিসেবেই বেশি দেখা গেছে। তাঁর

বিখ্যাত গাণিতিক বিশ্লেষণ বা পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা খুব কমই দৃশ্যমান হয়েছে। এছাড়া

ডক্টর ওয়াটসনের অনুপস্থিতি গল্পের মূল কাঠামোতে এক ধরণের অপূর্ণতা রেখে গেছে।

তাসত্ত্বেও একটি জমকালো পিরিয়ড ড্রামা এবং রহস্যঘেরা বিনোদনের জন্য ‘ইয়ং শার্লক’

একবার দেখার মতো একটি সিরিজ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত এটি পুরোনো জাদুকে

পুরোপুরি ফিরিয়ে আনতে না পারলেও শার্লক হোমস ইউনিভার্সে নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *